‘যেখানে আশা করিনি, সেখানেও জিতব!’ প্রথম দফার ভোট মিটতেই মমতার মুখে বিরাট জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী

বাংলার প্রথম দফার নির্বাচন শেষ হতে না হতেই রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। হাইভোল্টেজ এই লড়াইয়ে এবার নিজের জয়ের ব্যবধান এবং জনসমর্থন নিয়ে অভাবনীয় দাবি করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার এক সভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বা এসআইআর (SIR)-এর অত্যাচার সত্ত্বেও মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন এবং যে আসনগুলোতে জয়ের আশা কম ছিল, সেখানেও এবার ঘাসফুল ফুটতে চলেছে।

অত্যাচারের পাল্টা ভোট: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ভোটের দিন বিভিন্ন বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নির্দেশে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হয়েছে। কিন্তু মমতা বলেন, “মানুষ এই অত্যাচারের জবাব ব্যালট বক্সে দিয়েছেন। ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার অর্থ হলো— মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।” তাঁর দাবি, বাহিনী যত ভয় দেখিয়েছে, মানুষ তত বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে বেরিয়েছেন।

জয়ের অঙ্কে নতুন সমীকরণ: এদিন তৃণমূল সুপ্রিমোকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখায়। তিনি জানান:

  • প্রথম দফার ভোটে যে সব এলাকায় বিজেপির প্রভাব ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল, সেখানেও তৃণমূল অভাবনীয় ফল করবে।

  • নিচুতলার মানুষের সমর্থন এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের প্রভাব ভোট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে।

  • মমতা বলেন, “যেখানে যেখানে আমরা আশা করিনি, সেখানেও এবার আমরা জিতব।”

কমিশনকে বিঁধলেন নেত্রী: ভোট পরবর্তী হিংসা এবং অভিযোগ নিয়ে সরব হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, বাংলার পুলিশকে সরিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে বাহিনী এনে আদতে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু বাংলার সচেতন ভোটাররা সেই চক্রান্ত সফল হতে দেননি।

প্রথম দফার রেকর্ড ভোটিং শতাংশকে হাতিয়ার করে মমতার এই ‘ভিক্টরি সাইন’ কি সত্যিই ৩রা জুনের ফলাফলে দেখা যাবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার এই দাবি আসলে বাকি দফাগুলোর আগে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার এক সুপরিকল্পিত চাল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy