রক্তশূন্যতা দূর করতে আয়রন খেলেই হবে না, জানুন রক্ত বাড়ানোর সঠিক নিয়ম

মুখের ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, সারাক্ষণ ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভব করা, খাবারের প্রতি অনীহা কিংবা সামান্য কাজেই হাঁপিয়ে ওঠার মতো লক্ষণগুলি অনেকেই সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই লক্ষণগুলি প্রায়ই রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে, যার ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি দেখা যায়।

খাদ্যতালিকায় রাখুন আয়রনসমৃদ্ধ খাবার

শরীরের আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে প্রতিদিনের পাতে সচেতনভাবে কিছু খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি। যেমন:

  • মসুর ডাল, মটরশুঁটি ও পালংশাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি।

  • তিল, কিছু নির্দিষ্ট মাছ, খেজুর, কলা এবং ব্রকলি।

প্রাণিজ উৎসের আয়রন শরীর সহজেই শোষণ করতে পারে। তবে উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন থেকেও পূর্ণ পুষ্টি পেতে খাবারের সঠিক কম্বিনেশন জানা দরকার। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী লোহার কড়াইতে রান্না করলেও খাবারে কিছুটা প্রাকৃতিকভাবে আয়রন যুক্ত হতে পারে, যদিও এটি একমাত্র সমাধান নয়।

ভিটামিন সি-এর ম্যাজিক

উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রন শরীরে সঠিকভাবে শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন সি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই মসুর ডাল বা অন্যান্য ডালের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। পালংশাক রান্নার সময় টমেটো ব্যবহার কিংবা খাবারের সঙ্গে লেবু, পেয়ারা, কমলা বা আমলকির মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রাখলে তা আয়রন শোষণে দারুণ সাহায্য করে।

কোন অভ্যাসগুলি এড়িয়ে চলবেন?

  • চা-কফি পানের সময়: অনেকেরই খাওয়ার পরপরই চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকে। কিন্তু আয়রনযুক্ত খাবার খাওয়ার ঠিক আগে বা পরে চা-কফি পান করলে তাতে থাকা কিছু যৌগ আয়রন শোষণে বাধা দেয়। তাই যাঁদের রক্তস্বল্পতার সমস্যা রয়েছে, তাঁরা এই দুটির সময়ের মধ্যে কিছুটা ব্যবধান রাখুন।

  • দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, পনির বা চিজের মতো ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও আয়রন শোষণে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করে। তাই আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে একই সময়ে অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।

নিজে থেকে আয়রন সাপ্লিমেন্ট নয়

হিমোগ্লোবিন কমে গেলেই ফার্মেসি থেকে নিজের বুদ্ধিতে আয়রন ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্ট কিনে খাওয়া শুরু করা একেবারেই নিরাপদ নয়। কারণ সবসময় শুধু আয়রনের ঘাটতিতেই হিমোগ্লোবিন কমে না; ভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের ঘাটতি, দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণেও এমনটা হতে পারে। তাই এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করানো এবং সঠিক কারণ জেনে তবেই উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।