৬৫০ কোটির ডুপ্লেক্সে শ্রীদেবীর ছায়া! কেন আজও এই বাড়িতে প্রয়াত অভিনেত্রীকে অনুভব করেন জাহ্নবী কাপুর?

মুম্বইয়ের বান্দ্রার অভিজাত এলাকায় তারকাদের বিলাসবহুল বাসস্থানের কথা উঠলেই সবার আগে উঠে আসে জাহ্নবী কাপুরের নাম। তাঁর এই বাড়িটি কেবল চোখধাঁধানো আলিশান প্রপার্টিই নয়, বরং এর প্রতিটি কোণায় জড়িয়ে রয়েছে পরিবার ও পুরোনো স্মৃতির গভীর আবেগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় জাহ্নবী প্রায়ই তাঁর এই স্বপ্নের বাসস্থানের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে থাকেন, যেখানে সাদা রঙের মার্জিত থিম, প্রিমিয়াম ফিনিশ এবং দারুণ সব ডেকোরেশনের নিখুঁত ছোঁয়া দেখতে পাওয়া যায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, জাহ্নবী ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে বান্দ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৬৬৯ বর্গফুটের একটি বিশাল ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন। সে সময় এই বিলাসবহুল প্রপার্টির দাম প্রায় ৬৫ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছিল। এই হাই-প্রোফাইল বাড়ির সঙ্গে রয়েছে একটি সুন্দর প্রাইভেট গার্ডেন এবং পাঁচটি ডেডিকেটেড পার্কিং স্পট। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে একটি এক্সক্লুসিভ হোম ট্যুরের মাধ্যমে অভিনেত্রী তাঁর এই রাজকীয় বাসভবনের অন্দরমহল সবার সামনে তুলে ধরেছিলেন। এই বিশেষ সফরে তিনি শেয়ার করেছিলেন এই বাড়িটি সাজানোর পেছনের ভাবনা এবং কেন এই ঠিকানাটি তাঁর কাছে এত বেশি স্পেশাল।
বাড়ির লিভিং এরিয়াটি একটি ওপেন-প্ল্যান ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে, যার মার্বেল ফ্লোরিং পুরো জায়গার সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জাহ্নবীর মতে, এই ধরনের খোলা স্পেস তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ট্রেন্ডি আসবাবপত্র এবং আকর্ষণীয় সাজসজ্জার জিনিস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে এই ঘরের আসল গল্প কেবল এর দামি ইটিরিয়র বা সাজসজ্জার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জাহ্নবী অতীতে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, মা শ্রীদেবীর আকস্মিক প্রয়াণের পর তাঁদের পরিবারের পক্ষে একসঙ্গে বসে সময় কাটানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। ঘরের নানা জিনিসপত্র অনেক সময় প্রিয় মানুষের সেই শূন্যস্থান আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করাত।
কিন্তু এই নতুন বাড়িতে শিফট করার পর জাহ্নবী অনুভব করেন যে, তাঁদের পরিবার যেন ফের একবার আগের মতো কাছাকাছি চলে আসছে। শ্রীদেবী সশরীরে এই নতুন বাড়িতে কোনোদিন থাকতে পারেননি, তবুও জাহ্নবীর মনে হয় মায়ের উপস্থিতি যেন এখনও বাড়ির প্রতিটা কোণায় অটুট রয়েছে। ঘরের বিভিন্ন দেওয়ালে টাঙানো পুরোনো পারিবারিক ছবি এবং শ্রীদেবীর জনপ্রিয় সিনেমাগুলির সুন্দর স্মৃতিচিহ্ন এই অনুভূতিকে প্রতিনিয়ত আরও শক্তিশালী করে তোলে। গৃহপ্রবেশের পরের একটি বিশেষ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, গৃহপ্রবেশের ঠিক পরের দিন সকালে তিনি দেখেছিলেন তাঁর বাবা বনি কাপুর বাড়ির বাইরে শান্ত হয়ে বসে গাছের সবুজ ছায়া ও জলপ্রপাতের ফোয়ারার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন এবং এক টুকরো এগ স্যান্ডউইচ খাচ্ছেন। জাহ্নবীর কাছে সেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত মূল্যবান। কারণ তিনি সবসময় তাঁর বাবাকে এভাবেই মানসিক শান্তি ও সুখে দেখতে চেয়েছিলেন।
বাড়ির ডাইনিং এরিয়াটি নিয়েও রয়েছে দারুণ কিছু আকর্ষণ। এই রুমের ঠিক মাঝখানে রয়েছে ১০ জনের একসঙ্গে বসে খাওয়ার মতো একটি বিশাল ডাইনিং টেবিল, যার ঠিক ওপরে ঝুলন্ত একটি গ্লাস চ্যান্ডেলিয়ার পুরো স্পেসটিতে এক রাজকীয় আভিজাত্য এনে দিয়েছে। জাহ্নবী মজা করে বলেছিলেন যে, তাঁদের পরিবার যেমন আকারে বড়, তেমনই খাওয়ার ব্যাপারেও সবাই বেশ এগিয়ে, তাই পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে আড্ডা দিতে দিতে খাবার উপভোগ করে। বড় বড় জানলার সুবাদে বাইরের সবুজ প্রকৃতি ও প্রচুর প্রাকৃতিক আলো সবসময় ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। লিভিং রুমে রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি আরামদায়ক সোফা এবং চেয়ার, যাতে একসঙ্গে অনেক অতিথি এলেও আরামে বসতে পারেন। এই ঘরের একটি বিশেষ দেওয়ালে টাঙানো রয়েছে স্বয়ং শ্রীদেবীর নিজের হাতে আঁকা একটি পেইন্টিং। জাহ্নবী জানান, এটি তাঁর মায়ের আঁকা প্রথম দিকের বড় পেইন্টিংগুলির মধ্যে একটি, যা বাড়িটির সাজসজ্জায় এক অনন্য আবেগ জড়িয়ে রেখেছে।
বাবার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বনি কাপুর বলেছিলেন যে, তাঁর কাছে আসল বাড়ি সেটাই যেখানে তাঁর সন্তানরা হাসিখুশি থাকে এবং তিনি আজও এই বাড়ির মধ্যে শ্রীদেবীর অদৃশ্য উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন। জাহ্নবীর বেডরুমে যাওয়ার করিডোরের দেওয়ালে সারি দিয়ে সাজানো রয়েছে অজস্র পারিবারিক ফ্রেমবন্দি মুহূর্ত। কোনো নামী শিল্পীর আঁকা দামী পেইন্টিংয়ের চেয়েও এই পুরোনো ছবিগুলির দাম জাহ্নবীর কাছে অনেক বেশি। সব মিলিয়ে, জাহ্নবী কাপুরের এই বাড়িটি কেবল কোটি কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল ইমারত নয়, বরং এটি হাসি-কান্না, মা শ্রীদেবীর স্মৃতি এবং পরিবারের অকৃত্রিম ভালোবাসার এক পবিত্র আলয়।