সংসদে চরম হট্টগোল! বিরোধীদের বাধা উপেক্ষা করে রেকর্ড সংখ্যক বিল পাস করল মোদী সরকার!

এ বছরের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনটি তীব্র হট্টগোল, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নজিরবিহীন অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয়েরই কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। অধিবেশনজুড়ে বিরোধী দলগুলির তীব্র বিক্ষোভ এবং সংসদীয় কার্যক্রমে ক্রমাগত বাধার সৃষ্টি করা সত্ত্বেও কেন্দ্র সরকার অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিল পাস করাতে সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। এদিনের অধিবেশনের শুরুতেই সকাল ১১টায় জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ ছয়টি স্তবক পরিবেশনের মাধ্যমে লোকসভার কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং উপস্থিত ছিলেন। এর পরপরই লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

অধিবেশন সমাপ্তির পর আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই অধিবেশনের সার্বিক মূল্যায়ন করে জানান যে, কার্যপরিচালনার দিক থেকে অধিবেশনটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হলেও আলোচনার মান অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। তিনি জানান, বিরোধীদের ধারাবাহিক হট্টগোল ও প্রতিবাদের কারণে লোকসভায় বরাদ্দকৃত সময়ের মাত্র ১৯ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় মাত্র ৩৯ শতাংশ কাজ করা সম্ভব হয়েছে। ফলস্বরূপ, লোকসভায় কোনো অর্থপূর্ণ আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি প্রায় এগারোটি বিল পাস করিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বর্ষাকালীন অধিবেশনে লোকসভায় পাস হওয়া উল্লেখযোগ্য বিলগুলির মধ্যে রয়েছে খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, কেরালা রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কেরালাউম’ করার প্রস্তাবিত বিল, সুপ্রিম কোর্ট (বিচারকের সংখ্যা) সংশোধনী বিল, এবং কর ও অন্যান্য আইন সংশোধনী বিল। এছাড়াও, বিরোধী দলগুলির তীব্র প্রতিবাদের মাঝেও ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে বহুল আলোচিত বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল (এফসিআরএ), ২০২৬ যৌথ সংসদীয় কমিটিতে (জেপিসি) পাঠানোর প্রস্তাবটি সফলভাবে অনুমোদিত হয়েছে। উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতেও কেন্দ্রীয় খনিমন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডির প্রস্তাবিত খনি ও খনিজ বিলটি তুমুল শোরগোল ও স্লোগানের মধ্য দিয়েই পাস করা হয়েছে।

পুরো অধিবেশন জুড়েই বিরোধীরা মূলত নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড, রাম মন্দিরের দানধ্যান ও অর্ঘ্য আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ এবং যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়নের মতো বিতর্কিত ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে শাসকদলকে চরম বিপাকে ফেলার চেষ্টা করেছিল। এছাড়া, সংসদের অন্দরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর দমনপীড়নের সুনির্দিষ্ট জবাবদিহি চেয়েও বিরোধী সাংসদরা দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। তা সত্ত্বেও সরকারের এই রুদ্ধদ্বার ও দ্রুত বিল পাস করার কৌশল ভারতীয় রাজনীতির অন্দরে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।