দিল্লির লাল কেল্লায় রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণের নেপথ্যে আল কায়দা! বিস্ফোরক রিপোর্টে সিলমোহর দিল রাষ্ট্রসংঘ

দিল্লির লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ কার বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা-র (AQIS) প্রত্যক্ষ যোগ থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC)। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যার সময় নতুন দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে একটি গাড়িতে এই উচ্চপ্রাবল্যের বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এই মর্মান্তিক নাশকতার ঘটনায় মোট ১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং বহু মানুষ গুরুতর জখম হন। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA) বর্তমানে এই পুরো ষড়যন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নতুন মনিটরিং টিমের রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, আল কায়দার সন্ত্রাসবাদীরা এখন বড় বড় দল গঠন করার পরিবর্তে অত্যন্ত সুকৌশলে ছোট ছোট আন্ডারগ্রাউন্ড গ্রুপ বা স্লিপার সেল তৈরি করে নাশকতার ছক কষছে। এর আগে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাও এই হামলার নেপথ্যে আল কায়দার হাত রয়েছে বলে জোরালো দাবি করেছিল। উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে ওসামা বিন লাদেন আল কায়দা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি এর প্রধান হিসেবে বহাল ছিলেন। পরবর্তীতে মার্কিন অভিযানে লাদেনের মৃত্যুর পর সংগঠনের শীর্ষ কমান্ড যায় আয়মান আল-জাওয়াহিরির হাতে, তবে ২০২২ সালে তাকেও নিকেশ করা হয়। এরপর ধারণা করা হয়েছিল যে সংগঠনটি চিরতরে দুর্বল হয়ে পড়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক UNSC রিপোর্ট প্রমাণ করে দিল যে আল কায়দা তাদের লজিস্টিক এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করে নিয়েছে। ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলিতে আল কায়দার বর্তমান শক্তি কতখানি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, তা নিয়েও রিপোর্টে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২০২২ সালের তথ্যানুযায়ী এশিয়ায় আল কায়দার প্রায় ২৫০ জন সশস্ত্র জঙ্গি সক্রিয় ছিল। অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদতে তাদের ভূখণ্ডে প্রায় ৪০০ জন আল কায়দা জঙ্গি অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। শুধু তাই নয়, নতুন এই আন্তর্জাতিক রিপোর্টে এও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, আল কায়দা এখন বাংলাদেশ ও তার আশেপাশের অঞ্চলেও নিজেদের বিস্তার ঘটানোর জন্য নতুন সেল তৈরি করছে। ছোট দল গঠন করে বড় ধরনের রাসায়নিক ও জৈবিক হামলা চালানোর মারাত্মক পরিকল্পনা কষছে এই সন্ত্রাসবাদীরা। ২০১৪ সালে জাওয়াহিরির হাতে গঠিত আল কায়দার দক্ষিণ এশীয় শাখা বা সাউথ কমান্ড বর্তমানে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী উইং হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা পুরো দক্ষিণ এশীয় নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল অশনি সঙ্কেত।