জন্মের পর প্রথম একটা বছর শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষ কিছু তথ্য

প্রথম একটা বছর শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে সাবধানতা জরুরি। বিশেষ করে এই সময়টা তারা কী খাচ্ছে, সেদিকে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশু মায়ের দুধ ছাড়া আর কিছুই খাবে না। এরপর যখন শিশুকে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে পরিচয় করানো হবে, তখনও তাকে কী দেওয়া হবে এবং কী দেওয়া হবে না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মা-বাবা হওয়াই জীবনে সবচেয়ে আনন্দের, আবার কঠিন অধ্যায়ও বটে। কেননা নতুন বাবা-মায়েরা অনেক সময় শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। আবার অনেকে স্বাস্থ্যবান বানাতে বাচ্চাকে বেশি বেশি খাওয়াতে থাকেন। এতে কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে! তাই তাদের কী খেতে দেওয়া যাবে না, সেটা আগেই জেনে নেওয়া ভালো।

এবার জেনে নিন জন্মের পর প্রথম বছরে শিশুকে যে চার খাবার কখনোই দেওয়া যাবে না…

* এক বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে কখনোই রিফাইনড সুগার দেবেন না। তাদের শরীরের জন্য যেটুকু মিষ্টির প্রয়োজন, তা তারা অন্য প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি খাবার ও কার্বোহাইড্রেট থেকে সংগ্রহ করে নেয়। আলাদা করে মিষ্টি খেলে দাঁতের ক্ষয়, ওবিসিটি, ডায়াবেটিসের মত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বয়স অন্তত এক বছর না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে কখনোই চকোলেট, কোলা, ক্যান্ডি জাতীয় খাবার দেওয়া যাবে না।

* বয়স অন্তত এক বছর না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে লবণ খাওয়াবেন না। মায়ের দুধেই পর্যাপ্ত পরিমাণে সোডিয়াম থাকে। তাই আলাদা করে লবণ খাওয়ানোর কোনও প্রয়োজন নেই তাদের। এই বয়সে লবণ খেলে কিডনিতে পাথর, উচ্চ রক্তচাপ, ডিহাইড্রেশন এবং হাড়ের ক্ষয় দেখা দিতে পারে।

* জন্মের পরই শিশুর মুখে মধু দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে আমাদের সমাজে। কিন্তু বয়স অন্তত এক বছর না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে মধু খাওয়ানোই উচিত নয়। মধু থেকে শিশুর শরীরে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া হামলা চালাতে পারে, যার থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

* গরুর দুধ অবশ্যই নানা পুষ্টিগুণে ভরা। কিন্তু এক বছরের ছোট শিশুদের জন্য তা মোটেও উপকারী নয়। বয়স অন্তত এক বছর না হলে শিশুকে কখনোই গরুর দুধ খাওয়ানো উচিত নয়। গরুর দুধে যে মাত্রায় খাদ্যগুণ থাকে, তা শিশুর শরীর হজম করতে পারে না। এর থেকে গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy