লোকসভায় তৃণমূলের ২০ জন সাংসদের দলবদল ও এনসিপিআই (NCPI)-এর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। এই ঘটনায় তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দলবদলকারী এই বিদ্রোহী সাংসদদের, বিশেষ করে বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
কুণালের কড়া বার্তা রবিবার এই রাজনৈতিক ভূমিকম্পের পর কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, যারা এই ধরনের দলবদল করছেন, তা তাঁদের একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে তিনি নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে বলেন, “আপনারা তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন, অথচ দল ছাড়ার পরেও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন না কেন? আপনারা যদি তৃণমূলের আদর্শে বিশ্বাসী না হন, তবে পদ ধরে রাখার অধিকার আপনাদের নেই।”
এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে কুণাল আরও বলেন, “অন্যরা পদত্যাগ করছেন, আর আপনারা সব নিয়ম ভেঙে দলের প্রতীকে জিতে অন্য দলে ভিড়েছেন। এটি দলের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।”
“বিজেপি আপনাদের ব্যবহার করছে” কুণাল ঘোষের মতে, এই বিদ্রোহীরা বর্তমানে বিজেপির হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছেন। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “আপনারা এখন কেবল কিছু সংখ্যামাত্র। আপনাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে তা সময় বলবে, কিন্তু আপাতত আপনাদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে বিজেপি।” বিদ্রোহীদের এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কুণাল বলেন, “তৃণমূলের পার্টি অফিসে বসে কথা বলার নৈতিকতা এখন আপনাদের নেই।”
প্রসঙ্গত, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতার এই দলবদলকে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে কুণাল ঘোষের এই আক্রমণাত্মক বার্তা বুঝিয়ে দিল, তৃণমূল নেতৃত্ব এই দলত্যাগীদের কোনোভাবেই সহজে ছাড়তে রাজি নয়। আসন্ন দিনে এই রাজনৈতিক বিরোধ কোন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।





