দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। দলত্যাগের পরই এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সুদীপবাবু জানিয়েছেন তাঁর এই কঠিন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কথা।
“আমাকে সরিয়ে অভিষেককে নেতা করা হয়” সাংসদ পদ থেকে দলবদলকারী সাংসদদের এই নতুন যাত্রায় নিজের ভূমিকা স্পষ্ট করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই দলবদলের তালিকায় ২০ নম্বর সইটি আমার। আমি আজ স্বয়ং স্পিকারের ঘরে গিয়ে সেই সই করেছি।” দলত্যাগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তিনি সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “এতদিন আমি সংসদীয় দলের নেতা ছিলাম। আমাকে সরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই পদে বসানো হয়। সেই দিন থেকেই দলের অন্দরে আমার গুরুত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে অবহেলা করা হচ্ছিল।”
নতুন দল ও এনডিএ সমর্থন তৃণমূলের টিকিটে বারবার জয়ী এই সাংসদ কেন এখন ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-এর হাত ধরলেন? এ বিষয়ে সুদীপের জবাব, “আমরা এনডিএ শিবিরের আদর্শ ও উন্নয়নের রূপরেখাকে সমর্থন করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো বর্তমান রাজ্য সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা।”
আবেগের সংঘাত ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলের পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই শুরুর দিনগুলোর সঙ্গী ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সেই দল ছাড়ার সময় সুদীপের কণ্ঠে ধরা পড়ল আক্ষেপ আর অভিমান। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, দলের বর্তমান কর্মপদ্ধতি আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবই তাঁদের মতো প্রবীণ নেতাদের ব্রাত্য করে দিয়েছে।
রাজনীতির কারবারিদের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন পোড়খাওয়া নেতার এহেন মন্তব্য তৃণমূলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও গভীর করে তুলল। তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব যে দলের প্রবীণ নেতাদের মধ্যে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছিল, তা আজ সুদীপের বয়ানে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেল।





