গৃহসজ্জা এবং ঘরের বাতাস পরিশুদ্ধ রাখতে বর্তমানে ‘ইনডোর প্ল্যান্ট’-এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। কিন্তু শোবার ঘর বা বারান্দার কথা সবাই ভাবলেও বাথরুমকে প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়। অথচ বাথরুমের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও কম আলো অনেক গাছের বিকাশের জন্য আদর্শ পরিবেশ। বাথরুমকে সবুজে সাজাতে এবং বাতাসের দূষণ কমাতে জেনে নিন সেরা ৫টি গাছের নাম।
বাথরুমের জন্য আদর্শ ৫টি গাছ:
স্নেক প্ল্যান্ট (Snake Plant): এই গাছটি অত্যন্ত সহনশীল। সামান্য আলোতে যেমন বেঁচে থাকে, তেমনই বাতাস থেকে টক্সিন দূর করতে এর জুড়ি নেই।
মানিপ্ল্যান্ট (Money Plant): লতানো এই গাছ বাথরুমের যেকোনো কোণ বা শেলফে খুব সুন্দর দেখায়। জলে বা মাটিতে—উভয় পদ্ধতিতেই এটি দারুণ বাড়ে।
স্পাইডার প্ল্যান্ট (Spider Plant): বাথরুমের আর্দ্রতা এই গাছের অত্যন্ত পছন্দের। এটি খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং দেখতেও বেশ নান্দনিক।
লাকি ব্যাম্বু (Lucky Bamboo): মাটির প্রয়োজন নেই, শুধু কাঁচের পাত্রে জল দিয়ে এটি সাজিয়ে রাখা যায়। বাথরুমের ডেকোরেশনের জন্য এটি সেরা পছন্দ।
ফার্ন (Fern): আর্দ্র আবহাওয়া ফার্ন গাছের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। বাথরুমের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এটি প্রাণবন্ত থাকে।
বাথরুমে গাছ রাখার সুবিধাসমূহ:
১. বাতাস শুদ্ধি: অনেক গাছ বাথরুমের দুর্গন্ধ ও ফরমালডিহাইডের মতো ক্ষতিকারক গ্যাস শোষণ করে বাতাস নির্মল রাখে। ২. স্ট্রেস রিলিফ: সবুজের সান্নিধ্য স্নানের সময় মানসিক প্রশান্তি ও সতেজতা প্রদান করে। ৩. সজ্জা: বাথরুমের একঘেয়েমি দূর করে এক টুকরো প্রকৃতির ছোঁয়া নিয়ে আসে এই গাছগুলো।
যত্নআত্তির টিপস:
পর্যাপ্ত জল: যেহেতু বাথরুম এমনিতেই আর্দ্র, তাই গাছে অতিরিক্ত জল দেবেন না। মাটি শুকোলেই তবে জল দিন।
আলোর দিকে খেয়াল: যদিও এগুলি কম আলোয় বাঁচে, তবে মাঝে মাঝে গাছগুলো জানলার পাশে বা বারান্দায় সরিয়ে দিন, যাতে তারা পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো পায়।
পরিচ্ছন্নতা: পাতার ওপর ধুলো জমলে ভেজা কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে দিন, এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ভালো হয়।
বাথরুমের কোণে সামান্য সবুজের ছোঁয়া আপনার দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলতে পারে অনেক বেশি আরামদায়ক ও সতেজ!





