তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের এনসিপিআই (NCPI) বা ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন’স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’-তে যোগ দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল। এনডিএ শিবিরে সরাসরি যোগ না দিয়ে এই ছোট একটি দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার নেপথ্যে মূলত আইনি জটিলতা এড়ানোর কৌশল দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ এই এনসিপিআই দলটিই বা কেন?
হাওড়ার ঠিকানা, ত্রিপুরার লড়াই নির্বাচন কমিশনের নথিপত্র ঘেঁটে এক অদ্ভুত তথ্য উঠে এসেছে। এনসিপিআই-এর সদর দপ্তরের ঠিকানা হিসেবে কমিশনের খাতায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার আন্দুলের ঠিকানা। অর্থাৎ, তৃণমূল ছাড়লেও কার্যত বাংলার মাটির একটি দলেই নাম লেখালেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়রা। অথচ এই দলটি আবার ২০২৩ সালে ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এবং অসমের কিছু অংশেও তাদের প্রভাব রয়েছে।
কী এই এনসিপিআই? দলটি নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত হলেও এটি কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়। এর প্রতীকে রয়েছে ‘পেনের নিব ঘিরে সাতটি রশ্মি’। ২০২২ সালে দলটি কমিশনের কাছে নিবন্ধনের আবেদন জানায় এবং ২০২৩ সালে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। বর্তমানে উত্তরবঙ্গের কিছু অংশে এই দল তাদের সংগঠন বাড়াতে সচেষ্ট।
কেন এই দল বেছে নিলেন বিদ্রোহীরা? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল থেকে দলত্যাগী সাংসদদের সামনে প্রধান বাধা ছিল ‘দলত্যাগ বিরোধী আইন’ (Anti-defection Law)। লোকসভায় আলাদা ব্লক তৈরি করতে গেলে তাঁদের সংখ্যাতত্ত্বের জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তাই সেই আইনি গেরো থেকে বাঁচতে এবং দলের সদস্যপদ টিকিয়ে রেখে এনডিএ-কে সমর্থন করার সুবিধার্থেই এই ‘নথিভুক্ত’ দলটির সঙ্গে মিশে যাওয়াটা বিদ্রোহীদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ পথ বলে মনে হয়েছে।
তৃণমূলের দাপুটে নেতা-সাংসদদের এমন একটি স্বল্প পরিচিত দলের পতাকাতলে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি এখন রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। এই দলবদল কেবল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই প্রকাশ্যে আনল না, বরং ২০২৬-এর পরবর্তী রাজনীতির সমীকরণকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিল।





