কটন বাড্স নয়, কান পরিষ্কারের সঠিক ও নিরাপদ উপায় কী? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

কান চুলকানো বা কানের ময়লা (Earwax) পরিষ্কার করার জন্য কটন বাড্স (Cotton Buds) ব্যবহার করা একটি অতি সাধারণ অভ্যাস। অনেকে আবার কোনো প্রয়োজন ছাড়াই কেবল আরামের জন্য এটি ব্যবহার করেন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন—কানের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করার জন্য কটন বাড্স ব্যবহার করা মোটেও নিরাপদ নয়!

কটন বাড্স ব্যবহার করলে ময়লা কানের আরও ভেতরে চলে যেতে পারে, যা কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বা শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে।

ভারতের জীবনধারা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘বোল্ডস্কাই’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানের ক্ষতি না করে কান পরিষ্কার রাখার ৩টি নিরাপদ উপায় নিচে দেওয়া হলো।

কানের ভেতর পরিষ্কার রাখার ৩টি নিরাপদ কৌশল
কানের ভেতরের অংশ প্রকৃতিগতভাবে নিজস্ব পরিষ্কার প্রক্রিয়া বজায় রাখে। তবুও প্রয়োজনে আপনি এই তিনটি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন:

১. কানের বাইরের অংশের যত্ন: * কানের কেবল বাইরের অংশ (Ear Canal-এর বাইরের দিকে) পরিষ্কার করার জন্য কটন বাড্স ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সবচেয়ে ভালো হলো একটি পরিষ্কার ভেজা নরম কাপড় ব্যবহার করা। * আলতো করে কানের বাইরের অংশটি মুছে নিন, কিন্তু কোনোভাবেই কাপড় কানের ভেতরে প্রবেশ করাবেন না।

২. তেল বা গ্লিসারিন পদ্ধতি: * প্রথমেই কানের ভেতরে কয়েক ফোঁটা বেবি অয়েল, গ্লিসারিন অথবা চিকিৎসকের পরামর্শে তৈরি কানের ড্রপ দিন। এটি কানের ভেতর জমে থাকা ময়লাকে নরম করে দেবে। * কয়েক দিন পর, আক্রান্ত কানে কয়েক ফোঁটা ঈষদুষ্ণ জল (গরম জল নয়) ঢালুন। * তারপর যে কানে জল দিয়েছেন, সেই দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে দিন যাতে জলটি এবং নরম হওয়া ময়লা বাইরে বেরিয়ে আসে। * জল বেরিয়ে গেলে কানের বাইরের অংশটি একটি তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে নিন। মনে রাখবেন, কোনোভাবেই কটন বাড্স বা অন্য কোনো বস্তু কানের ভেতরে ঢোকাবেন না।

৩. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড পদ্ধতি: * মাথা একদিকে কাত করুন এবং ওপর দিকে থাকা কানে কয়েক ফোঁটা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সলিউশন দিন। * ১০ থেকে ১৫ মিনিট ওইভাবেই থাকুন। আপনি কানে ফোঁস ফোঁস শব্দ শুনতে পারেন, যা স্বাভাবিক। * এরপর মাথা উল্টো দিকে কাত করুন। দেখবেন, কানের ভেতরের সলিউশন এবং নরম হওয়া ময়লা বা দ্রবণটি বেরিয়ে আসছে। * এই প্রক্রিয়ায় কোনো ঘষাঘষি ছাড়াই আপনার কান পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কানের ভেতরের ময়লা (Earwax) আসলে কানের সুরক্ষার জন্যই তৈরি হয়। এটি কানকে ধুলো এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে। তাই অপ্রয়োজনে বা অযথা পরিষ্কারের চেষ্টা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy