নির্বাচন কমিশনের জারি করা বাইক সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াই শুরু হলো। কমিশনের এই বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক মামলাকারী। মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলা দায়ের করার অনুমতি মিলেছে। আগামিকাল ২৩ এপ্রিল, মঙ্গলবারই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলার মূল কারণ:
মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি, কমিশনের এই নির্দেশিকা আসলে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের ‘রুটিরুজি’ এবং যাতায়াতের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। বিশেষ করে বাইকের পেছনে আরোহী বসানোয় নিষেধাজ্ঞার ফলে অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নাজেহাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই হয়রানি রুখতেই আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
কমিশনের সেই বিতর্কিত তিন নিয়ম:
নির্বাচন কমিশন তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়েছে:
১. ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনও এলাকায় বাইক মিছিল করা যাবে না।
২. ভোটের দু’দিন আগে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো গেলেও, পেছনে কোনও যাত্রী বা পিলিয়ন রাইডার বসানো যাবে না।
৩. ভোটের দিন কেবল ভোট দেওয়া বা অত্যন্ত জরুরি কাজেই বাইক বের করা যাবে।
ছাড়ের তালিকা ও বিভ্রান্তি:
যদিও কমিশন জানিয়েছে যে চিকিৎসা, স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াত বা র্যাপিডো-র মতো অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে স্থানীয় থানার লিখিত অনুমতি নেওয়ার বিষয়টিও সাধারণের কাছে বড় ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, বুধবারের শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট সাধারণের স্বস্তি ফেরাতে কমিশনের কড়াকড়িতে কোনও বদল আনে কি না।





