ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিম, কড়া ডায়েট আর ঘাম ঝরানো পরিশ্রম—সবই বৃথা যাচ্ছে আয়নার সামনে দাঁড়ালে? ডায়েট মেনে চলার পরেও তলপেটের সেই ‘জেদি’ মেদ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। ওজন কমানোর এই অসম লড়াইয়ে যখন সবাই ক্লান্ত, তখনই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার ব্যক্তিগত ফিটনেস প্রশিক্ষক সিদ্ধার্থ সিংহ।
তার মতে, আমরা অনেক সময় ‘স্বাস্থ্যকর’ মনে করে এমন কিছু খাবার খাই, যা আসলে শরীরের চর্বি কমানোর বদলে পেটের মেদ বাড়াতে ইন্ধন দেয়। ক্যালোরি কমানোর চেয়েও খাবার নির্বাচনে সচেতন হওয়া যে কতটা জরুরি, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। দেখে নিন সিদ্ধার্থ সিংহের মতে কোন ৩টি খাবার আপনার ওজন কমানোর পথে প্রধান বাধা:
১. পিনাট বাটার বা বাদামের মাখন (Peanut Butter)
প্রোটিন ও হেলদি ফ্যাটের উৎস হিসেবে ব্রেকফাস্ট টেবিলে এর রাজত্ব। স্মুদি হোক বা টোস্ট—পিনাট বাটার ছাড়া অনেকের চলেই না। কিন্তু সিদ্ধার্থ জানাচ্ছেন, এর ক্যালোরি ঘনত্ব অনেক বেশি। সামান্য পরিমাণেও থাকে প্রচুর ক্যালোরি। তাই স্বাস্থ্যকর ভেবে এটি অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে আপনার ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণের পুরো ছকই ভেস্তে যায়।
২. বাজারজাত গ্রানোলা (Granola)
ওটস, বাদাম আর শুকনো ফলের মিশেলে তৈরি গ্রানোলাকে আমরা আদর্শ সকালের খাবার মনে করি। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে আসল ফাঁদ! বাজারজাত গ্রানোলায় স্বাদ বাড়াতে প্রচুর পরিমাণে বাড়তি চিনি ও প্রক্রিয়াজাত উপাদান ব্যবহার করা হয়। ফলে এটি নিয়মিত খেলে মেদ কমার বদলে শরীরে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা তলপেটে চর্বি জমায়।
৩. বিয়ার (Beer)
সপ্তাহান্তে বন্ধুদের সাথে এক-আধ গ্লাস বিয়ারকে অনেকেই তেমন ক্ষতিকর ভাবেন না। কিন্তু বিয়ারে থাকে উচ্চমাত্রার ক্যালোরি, যা সরাসরি পেটে চর্বি হিসেবে জমা হয় (যাকে আমরা ‘বিয়ার বেলি’ বলি)। শুধু তাই নয়, এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া (Metabolism) ধীর করে দেয়, ফলে ফ্যাট বার্নিং প্রক্রিয়া থমকে যায়।
সিদ্ধার্থ সিংহের পরামর্শ:
ওজন কমানো মানে শুধু না খেয়ে থাকা বা ব্যায়াম করা নয়। ‘হেলদি’ লেবেল লাগানো খাবারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্যালোরির ফাঁদ চিনতে হবে। ডায়েটে এই সামান্য পরিবর্তনই আপনাকে এনে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত মেদহীন শরীর।





