জাতীয় দলে নিজের জায়গা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এবার নজিরবিহীন মন্তব্য করলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি। এরপর টেস্ট ফরম্যাট থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোহলিকে শুধু একদিনের ক্রিকেটেই (ওডিআই) দেশের জার্সিতে দেখা যায়। তবে আইসিসি ক্যালেন্ডারে ওডিআই ম্যাচের সংখ্যা কমে আসায়, ৩৭ বছর বয়সী এই মহাতারকার ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে ক্রিকেট মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
এই আবহে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) অফিশিয়াল পডকাস্টে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ার ও দলে নিজের অবস্থান নিয়ে এক তীব্র বার্তা দিয়েছেন কিং কোহলি। ফ্র্যাঞ্চাইজির অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা এই ভিডিও ক্লিপটি ইতিপূর্বেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
“যোগ্যতা প্রমাণ করতে হলে আমি সেখানে নেই”
সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যৎ এবং ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলার সময় বিরাট স্পষ্ট করে দেন যে, দলে তাঁর অবদান এবং গুরুত্ব যদি প্রশ্নাতীত না হয়, তবে তিনি জোর করে নিজের জায়গা ধরে রাখতে চান না।
কোহলি বলেন, “আমার দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত পরিষ্কার। আমি যে পরিবেশ বা দলের অংশ, সেখানে যদি আমি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারি এবং সেই পরিবেশও যদি মনে করে যে আমার অবদান গুরুত্বপূর্ণ, তবেই আমি খেলা চালিয়ে যাব। কিন্তু পরিস্থিতি যদি এমন হয় যেখানে আমাকে প্রতি মুহূর্তে নিজের যোগ্যতা এবং গুরুত্ব প্রমাণ করতে হচ্ছে, তবে সেই অবস্থানে আমি নিজেকে দেখতে রাজি নই। কারণ আমি আমার প্রস্তুতি এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে সম্পূর্ণ সৎ।”
কেরিয়ারের শেষ বলের মতো প্রতিটি মুহূর্ত
চলতি আইপিএলে অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন বিরাট কোহলি। ১২ ইনিংসে একটি শতরান ও তিনটি অর্ধশতরানসহ ইতিমধ্যেই তাঁর ঝুলিতে এসেছে ৪৮৪ রান। নিজের এই ধারাবাহিকতা এবং কঠোর পরিশ্রম প্রসঙ্গে বিরাট জানান, তিনি দলের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে সর্বদা প্রস্তুত।
খেলাটির প্রতি নিজের আবেগ প্রকাশ করে বিরাট বলেন, “আমি অন্য সবার চেয়ে বেশি কঠোর পরিশ্রম করি এবং খেলাটাকে সঠিক নিয়মেই খেলি। আপনি যদি চান আমি একটা ওডিআই ম্যাচে পুরো ৪০ ওভার ধরে এক বাউন্ডারি থেকে অন্য বাউন্ডারিতে ফিল্ডিংয়ের জন্য ছুটে বেড়াই, আমি কোনো অভিযোগ ছাড়াই তা করব। নিজেকে আমি সেভাবেই তৈরি করি। মাঠের প্রতিটি বলকে আমি এমনভাবে খেলি যেন ওটাই আমার কেরিয়ারের শেষ বল। একই আবেগ নিয়ে ব্যাট করি এবং একই উৎসাহ নিয়ে উইকেটের মাঝে দৌড়াই।”
কর্পোরেট সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা
নিজের বক্তব্যকে আরও স্পষ্ট করতে বিরাট বর্তমান ক্রিকেটীয় পরিস্থিতির সঙ্গে একটি সাধারণ চাকরির তুলনা টেনেছেন। তিনি আক্ষেপের সুরে জানান, কর্পোরেট জগতে যেভাবে একজন কর্মীকে এক সপ্তাহে দারুণ সমর্থন দেওয়া হয় এবং ঠিক তার পরের সপ্তাহেই তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, ক্রিকেটেও যদি এমন মানসিকতার মুখোমুখি হতে হয়, তবে সেই জায়গাটি তাঁর জন্য একেবারেই সঠিক নয়।
চলতি আইপিএলে ব্যাট হাতে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিরাটের এই নীতিগত অবস্থান নির্বাচক এবং ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে নতুন করে অনেক প্রশ্ন ও জল্পনার জন্ম দিল।





