নারী দেখলেই কুদৃষ্টি? এবার যমদূতের মতো ধেয়ে আসছে কালো পোশাকের স্কুটি বাহিনী, কাঁপছে দুষ্কৃতীরা

নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইভটিজার ও বখাটেদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে পুলিশ। রাজস্থানের খৈরথাল-তিজারা জেলায় নারীদের উত্যক্তকারী দুষ্কৃতীদের দমন করতে রীতিমতো ত্রাস হয়ে উঠেছে বিশেষ ‘কালিকা পেট্রোলিং ইউনিট’। পুলিশ সুপার ব্রিজেশ জ্যোতি উপাধ্যায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয় সিং-এর কড়া নির্দেশে জেলার ৫টি শহরের রাস্তায় ছদ্মবেশে এবং পুলিশের পোশাকে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এই বাহিনী।

বিশেষ করে খৈরথাল, কিষাণগড় বাস, তাতারপুর এবং কোটাকাসিমের মতো জনবহুল এলাকা, স্কুল ও কলেজের বাইরে কালিকা ইউনিটের কালো পোশাক পরিহিত মহিলা পুলিশ অফিসারদের স্কুটারে চড়ে সতর্কভাবে টহল দিতে দেখা যাচ্ছে। আর এই সক্রিয়তার ফলেই হাতেনাতে ধরা পড়ল দুই ইভটিজার।

ঘটনাটি ঘটেছে কিষাণগড় বাস শহরের একটি মহিলা কলেজের সামনে। সেখানে কালিকা ইউনিটের দুই মহিলা কনস্টেবল পুষ্পা সাইনি এবং পুনম যখন ডিউটি করছিলেন, তখন এক কলেজ ছাত্রী এসে তাঁদের কাছে একটি গুরুতর অভিযোগ জানান। ওই ছাত্রী দাবি করেন, গত বেশ কয়েকদিন ধরে দুজন যুবক লাইব্রেরি থেকে শুরু করে কোচিং ক্লাস পর্যন্ত তাঁর পিছু নিচ্ছে এবং রাস্তায় অনবরত অশালীন ও অশ্লীল মন্তব্য করে মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে।

অভিযোগ পাওয়ামাত্রই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে অ্যাকশনে নামেন পুষ্পা ও পুনম। ঘটনাস্থল থেকেই ধাওয়া করে ওই দুই যুবককে হাতেনাতে পাকড়াও করেন তাঁরা। এরপর প্রকাশ্য রাস্তাতেই ওই দুই ইভটিজারকে কান ধরে উঠবস করানো হয়। মাঝরাস্তায় পুলিশের এমন রুদ্ররূপ দেখে কেঁদে ফেলে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় দুই অভিযুক্ত।

তবে শুধু কান ধরে উঠবস করিয়েই রেহাই দেওয়া হয়নি। এরপর কালিকা ইউনিট সরাসরি ১১২ নম্বরে ফোন করে স্থানীয় থানাকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ এসে শান্তিভঙ্গের অভিযোগে ১৫১ ধারায় ওই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে হাজতে পাঠায়। পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ছাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—নারীদের দিকে কুদৃষ্টি দিলেই কপালে রয়েছে চরম দুর্ভোগ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy