আইপিএলের ১৯তম মরশুমে (IPL 2026) এক রুদ্ধশ্বাস নাটকের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। একদিকে যখন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স নিজেরাই প্লে-অফের দৌড় থেকে প্রায় ছিটকে গিয়েছে, ঠিক তখনই প্রীতি জিন্টার পঞ্জাব কিংসের রথ থামিয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টের সমীকরণ এক ধাক্কায় বদলে দিল তারা। বিশেষ করে হার্দিক পাণ্ড্য এবং সূর্যকুমার যাদবের অনুপস্থিতিতে এই জয় মুম্বইয়ের লড়াইয়ের মানসিকতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
বুমরাহর নেতৃত্বে মুম্বইয়ের রাজকীয় কামব্যাক
এই ম্যাচে মুম্বইয়ের ডাগআউটে ছিলেন না হার্দিক বা সূর্য। নেতৃত্বের দায়িত্ব বর্তেছিল দলের প্রধান অস্ত্র যশপ্রীত বুমরাহর কাঁধেই। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পঞ্জাব কিংস বোর্ডে ২০০ রানের পাহাড় গড়েছিল। মনে করা হয়েছিল, শ্রেয়স আইয়ারের পঞ্জাব গতবারের রানার-আপ হওয়ার আক্ষেপ এবার অনায়াসেই মিটিয়ে ফেলবে। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। মুম্বইয়ের তিলক বর্মার অপরাজিত ৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে এক বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় বুমরাহ ব্রিগেড। বল হাতে মুম্বইয়ের নায়ক শার্দুল ঠাকুর, যিনি একাই তুলে নেন ৪টি উইকেট।
পঞ্জাবের ছন্দপতন: জয়ের ধারা থেকে টানা ৫ হার
মরশুমের শুরুতে পঞ্জাব কিংসকে অজেয় মনে হচ্ছিল। টানা জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রাজত্ব করছিল তারা। কিন্তু হঠাৎই যেন মড়ক লেগেছে প্রীতি জিন্টার শিবিরে। নাগাড়ে ৫টি ম্যাচে পরাজিত হয়ে এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে তাদের। বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে ২০০ রান তুলেও বোলারদের ব্যর্থতায় হার মানতে হলো শ্রেয়স আইয়ারদের। তিলক বর্মার ইনিংস পঞ্জাব বোলারদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
কেকেআরের জন্য কি আশার আলো?
পঞ্জাবের এই হারে সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে কলকাতা নাইট রাইডার্স। বর্তমানে ১১ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে বেশ চাপে রয়েছে নাইটরা। প্লে-অফে পৌঁছতে গেলে কেকেআরকে বাকি ৩টি ম্যাচের সবকটিতেই জিততে হবে, যা তাদের ১৫ পয়েন্টে পৌঁছে দেবে। অন্যদিকে আরসিবি এবং গুজরাত ইতিমধ্যেই ১৬ পয়েন্ট করে তুলে প্লে-অফের টিকিট প্রায় পাকা করে ফেলেছে। বাকি দুটি জায়গার জন্য এখন লড়াই হবে কেকেআর, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালসের মধ্যে। পঞ্জাবের এই টানা হার কেকেআরের সামনে প্লে-অফের দরজা কিছুটা হলেও প্রশস্ত করে দিল। এখন দেখার, দিল্লির বিরুদ্ধে অক্ষর প্যাটেলদের হারিয়ে কেকেআর প্লে-অফের দিকে কতটা এগোতে পারে।





