আইপিএলের অন্ধকার ইতিহাস! টানা ম্যাচ হেরে কোন দলগুলো গড়ল লজ্জার রেকর্ড?

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মানেই চার-ছক্কার বৃষ্টি, গ্যালারি ভরা উন্মাদনা আর শেষ বল পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াই। কোটি টাকার এই টুর্নামেন্টে যেমন রয়েছে আকাশছোঁয়া সাফল্যের গল্প, ঠিক তেমনই এর আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু অন্ধকার অধ্যায়। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে যেকোনো দিন যেকোনো দল অন্য দলকে হারিয়ে দিতে পারে। কিন্তু মাঝেমধ্যে এমন কিছু সময় আসে, যখন বড় বড় নামী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও জয়ের সরণি খুঁজে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। চলতি মরসুমে পাঞ্জাব কিংসের পারফরম্যান্স সেই কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। টানা ৫টি ম্যাচ হেরে প্রীতি জিন্টার দল এখন পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিকে। এই হারের ধাক্কায় ২০২৬ সালের প্লে-অফে ওঠার রাস্তা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে আইপিএলের ইতিহাসে পাঞ্জাবই একমাত্র দল নয় যারা এই লজ্জার মুখোমুখি হয়েছে। অতীতে বহু নামী এবং সফল দল টানা ম্যাচ হেরে নজিরবিহীনভাবে ট্রোলের শিকার হয়েছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক আইপিএলের ইতিহাসে টানা ম্যাচ হেরে সবচেয়ে খারাপ রেকর্ড গড়েছে কোন কোন দল।

এই তালিকায় সবার উপরে যৌথভাবে নাম রয়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (বর্তমানে দিল্লি ক্যাপিটালস) এবং অধুনালুপ্ত পুণে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়ার। আইপিএলের ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হারার রেকর্ড রয়েছে এই দুটি দলের ঝুলিতে। ২০১৪ সালের মরসুমে দিল্লির পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। সেই বছর তারা টানা ৯টি ম্যাচ হেরেছিল। লজ্জার এখানেই শেষ নয়, এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালের মরসুমের প্রথম দুটি ম্যাচেও পরাজয় বাঞ্ছনীয় হয় তাদের। ফলে দুই মরসুম মিলিয়ে টানা ১১টি ম্যাচ হারার এক চরম লজ্জাজনক রেকর্ড তৈরি হয় দিল্লির ইতিহাসে। অন্যদিকে, ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আইপিএলের অংশ থাকা পুণে ওয়ারিয়র্সও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের মেলে ধরতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। ২০১২ এবং ২০১৩ মরসুম মিলিয়ে তারাও টানা ১১টি ম্যাচ হেরে দিল্লির রেকর্ডে ভাগ বসায়।

টানা ম্যাচ হারার এই তালিকায় বাদ যায়নি কলকাতা নাইট রাইডার্সের মতো তিনবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন দলও। ২০০৯ সালের আইপিএল অনুষ্ঠিত হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। সেই মরসুমটি কেকেআর সমর্থকদের কাছে একটি দুঃস্বপ্নের মতো ছিল। ব্র্যান্ডন ম্যাকালামের নেতৃত্বে সেই বছর কেকেআর টানা ৯টি ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিল। যা আজও নাইট শিবিরের ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি কালো দাগ হিসেবে গণ্য করা হয়।

একইভাবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সও এই চরম ব্যর্থতার স্বাদ পেয়েছে। ২০২২ সালের আইপিএলে রোহিত শর্মা এবং সূর্যকুমার যাদবদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী মুম্বই দল নিজেদের প্রথম ৮টি ম্যাচেই টানা পরাজিত হয়েছিল। আইপিএলের ইতিহাসে কোনো সফলতম দলের এমন সূচনা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত সেই বছর পয়েন্ট টেবিলের একেবারে সর্বনিম্ন স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছিল আম্বানিদের দলকে। ২০১৫ সালে পাঞ্জাব কিংসও (তৎকালীন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব) একই রকম পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল এবং সেবার তারা টানা ৭টি ম্যাচে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়।

জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও (আরসিবি) এই তালিকায় বেশ ওপরের দিকেই রয়েছে। বিরাট কোহলির দল ২০১৯ সালের আইপিএল মরসুমে প্রথম টানা ৬টি ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল। যদি তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের শেষ ম্যাচের পরিসংখ্যানও এর সাথে যোগ করা হয়, তবে আরসিবির টানা হারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাই ছিল আরসিবির ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স।

ক্রিকেটের এই মেগা টুর্নামেন্টে টানা হার শুধুমাত্র পয়েন্ট টেবিল বা ট্রফির লড়াইয়েই ক্ষতি করে না, বরং ক্রিকেটারদের মানসিক আত্মবিশ্বাসেও বড়সড় আঘাত হানে। বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, পাঞ্জাব কিংসের সামনে এখন মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাদের এই দুটি ম্যাচেই শুধু জিতলে হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলগুলির ফলাফলের দিকেও। কিন্তু যদি তারা আর একটি ম্যাচও হেরে যায়, তবে এই বছরের মতো শেষ চারের দরজা তাদের জন্য পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, পাঞ্জাব কিংস কি এই অভিশপ্ত সময় কাটিয়ে ২০২৬ সালে আবার রাজকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি হারের এই ধারা তাদের আরও বড় লজ্জার দিকে ঠেলে দেবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy