হ্যালান্ড-ঝড়ে তছনছ সেলেকাওরা, ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে কোয়ার্টারে নরওয়ে!

নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে যেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল। ২৮ বছর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যে নরওয়ের কাছে হেরেছিল ব্রাজিল, এদিন সেই নরওয়ের কাছে হেরেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর্লিং হ্যালান্ডের বিধ্বংসী জোড়া গোলে ১-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হলো নেইমারদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল দুই দল। ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি জানিয়েছিলেন, হ্যালান্ডকে আটকানোর জন্য বিশেষ কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। কিন্তু মাঠে সেই আর্লিং হ্যালান্ডই ব্রাজিলের রক্ষণভাগের যম হয়ে দাঁড়ালেন। প্রথমার্ধের ১২ মিনিটে ব্রাজিল পেনাল্টি পেলেও ব্রুনো গুইমারায়েস তা লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন, যা ছিল গত ৪০ বছরে ব্রাজিলের কোনো খেলোয়াড়ের সরাসরি পেনাল্টি মিসের বিরল ঘটনা। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যান্ড এই পেনাল্টি বাঁচিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আন্সেলোত্তি এন্ড্রিক, নেইমার ও এদেরসনকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিশোর এন্ড্রিক ভিনিসিয়াসের ঠিকানা লেখা থ্রু ধরেও সহজ সুযোগ নষ্ট করেন, যা শেষ পর্যন্ত হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উল্টোদিকে, ৭৯ মিনিটে আন্দ্রিয়াস স্কেলডেরাপের সেন্টার থেকে মাথা ছুঁইয়ে হ্যালান্ড প্রথম গোলটি করেন। ৯০ মিনিটে স্কেলডেরাপের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে হ্যালান্ডের জোরালো কোনাকুনি শট ব্রাজিলের জালে জড়িয়ে গেলে নরওয়ের জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। চলতি বিশ্বকাপে এটি হ্যালান্ডের সপ্তম গোল, যা তাঁকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসি ও এমবাপের সমান্তরালে নিয়ে এল।
সংযুক্তি সময়ের একদম শেষে নেইমার একটি পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও, তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এই জয়ের ফলে নরওয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল। নকআউটের লড়াইয়ে ভিক্টোরি ছিনিয়ে নিয়ে তারা এখন শেষ আটে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়। অন্যদিকে, কাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আসা সেলেকাওদের এই প্রস্থান বিশ্ব ফুটবলে বড়সড় অঘটন হিসেবেই গণ্য হবে।