শরথ কমলের পর ফের বাজিমাত! কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে বাংলা ছাড়ার ক্ষোভ মেটালেন তরুণ তুর্কি!

নতুনদিল্লির ত্যাগরাজ স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সদ্য সমাপ্ত কমনওয়েলথ টেবল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন বাঙালি প্যাডলাররা। এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে জোড়া পদক ও খেতাব নিজেদের নামে করেছেন অঙ্কুর ভট্টাচার্য, সিন্ড্রেলা দাস এবং সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়ের মতো উদীয়মান ও প্রতিভাবান তারকারা। সার্বিক পদক তালিকার শীর্ষে থেকে ভারত অত্যন্ত আধিপত্যের সঙ্গেই এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তি ঘটিয়েছে।
পুরুষ সিঙ্গলসের রোমাঞ্চকর ফাইনালে কলকাতার ১৯ বছর বয়সি তরুণ প্যাডলার অঙ্কুর ভট্টাচার্য চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। ফাইনালে তিনি তাঁরই ডাবলস সঙ্গী তথা ভালো বন্ধু পায়াস জৈনকে পরাজিত করেন। এই ম্যাচটি অত্যন্ত নাটকীয় মোড় নিয়েছিল, যেখানে সাত গেমের লড়াইয়ে একসময় ২-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত মানসিক দৃঢ়তা ও প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে খেতাব নিজের ঘরে তোলেন অঙ্কুর। মূলত সম্প্রতি এশিয়ান গেমসের মূল দলে সুযোগ না পেয়ে তীব্র হতাশার মুখে পড়েছিলেন তিনি। এশিয়াডের দলে তাঁকে কেবল রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছিল। অনেকেই মনে করছেন, কমনওয়েলথ মঞ্চে সোনা জিতে যেন সেই সমস্ত উপেক্ষার কড়া জবাবই দিলেন এই তরুণ প্রতিভাবান প্যাডলার।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দীর্ঘ ও কঠিন পথটিতে অঙ্কুর মালয়েশিয়ার ওং খাই শেন, বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৪৪তম স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী নিকোলাস লাম এবং প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা ভারতীয় প্যাডলার মানব ঠক্করের মতো অভিজ্ঞ তারকাদের পরাজিত করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভারতের কিংবদন্তি শরথ কমলের পর কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে দ্বিতীয় পুরুষ সিঙ্গলসের সোনা এনে দিলেন এই বাঙালি প্যাডলার। যদিও বঞ্চনা ও নানা প্রতিকূলতার শিকার হয়ে বর্তমানে বাংলা ছেড়ে হরিয়ানায় গিয়ে অনুশীলন করছেন বছর উনিশের এই প্যাডলার। ফাইনালে জয় নিশ্চিত করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি, গ্যালারিতে উপস্থিত মা কুন্তলী ভট্টাচার্য এবং বাবা অংশুমান ভট্টাচার্যের উদ্দেশে ফ্লাইং কিস ছুড়ে নিজের আবেগ প্রকাশ করেন।
কেবল অঙ্কুর একা নন, এবারের কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় টেবল টেনিস দলের দাপট ছিল সমগ্র টুর্নামেন্ট জুড়েই। সিঙ্গলস, ডাবলস এবং মিক্সড ডাবলস— প্রতিটি বিভাগেই সোনা ও পদক জয় করে নেয় ভারত। পুরুষ সিঙ্গলসের মতো মহিলা সিঙ্গলসের ফাইনালেও ছিল অল-ইন্ডিয়া লড়াই। সেখানে সৃজা আকুলাকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হারিয়ে সোনা জিতে নেন যশস্বিনী ঘোরপাড়ে। পাশাপাশি, মহিলা সিঙ্গলসে অসাধারণ পারফর্ম করে জোড়া ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেন বাংলার দুই কৃতী প্যাডলার সিন্ড্রেলা দাস ও সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়। শুধু একক বিভাগেই নয়, ডাবলসেও দারুণ সফল হয়েছেন কলকাতার সিন্ড্রেলা। এশিয়ান গেমসের মূল দলে জায়গা করে নেওয়া সৃজা আকুলার সঙ্গে দুর্দান্ত জুটিতে তাঁরা সোনা জিতে নিয়েছেন।
একই ইভেন্টে ভারতের ঝুলিতে রুপো এবং ব্রোঞ্জ পদকও এসেছে। অঙ্কুর ও সিন্ড্রেলার মতো তরুণ তুর্কিদের এই অভাবনীয় সাফল্য ভারতীয় টেবল টেনিসের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। এই টুর্নামেন্টের পর এবার অঙ্কুরের পরবর্তী বড় লক্ষ্য ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্ট, যেখানে বিশ্বের প্রথমসারির সেরা প্যাডলারদের বিরুদ্ধে নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন তিনি। ভারতীয় দলের কোচ সৌরভ চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান যে, ইউরোপের দেশগুলোর বিরুদ্ধে এই ধরণের দাপট বজায় রাখা সত্যিই দারুণ ব্যাপার। সিঙ্গলসে ছেলে ও মেয়েদের বিভাগে ভারতের আটজন প্রতিনিধি থাকা এবং পুরুষদের ডাবলস ছাড়া বাকি সব বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া এশিয়ান গেমসের আগে গোটা দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।