শচীন-বিরাটের উত্তরসূরি কি বৈভব? ১৫ বছর বয়সেই বিশ্বরেকর্ড ভেঙে তোলপাড় ফেললেন এই বিস্ময় বালক!

ভারতীয় ক্রিকেটের আঙিনায় এক নতুন সূর্যের উদয় হয়েছে, যার নাম বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে যা কিছু অর্জন করেছেন এই বিস্ময় বালক, তা রূপকথার মতো। আইপিএল ২০২৬-এ তাঁর দাপুটে পারফরম্যান্স দেখে ক্রিকেট দুনিয়া অবাক। ১৬টি ইনিংসে ৪৮.৫০ গড় এবং অবিশ্বাস্য ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ নিজের দখলে নিয়েছেন তিনি। সবচেয়ে বড় চমক ছিল তাঁর ছক্কা মারার ক্ষমতা—মোট ৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ক্রিস গেইলের এক মরসুমের ৫৯টি ছক্কার পুরনো রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।

এই তরুণ প্রতিভাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকা মদন লাল। পিটিআই-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন এই অলরাউন্ডারের অকপট স্বীকারোক্তি, বৈভবের মধ্যে তিনি শচীন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলি এবং সুনীল গাভাস্কারের মতো কিংবদন্তিদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন। মদন লালের কথায়, “এই ধরনের ক্রিকেটার শতাব্দীতে একবারই জন্মায়। তাঁর মধ্যে ঈশ্বরদত্ত প্রতিভা এবং অদম্য মানসিকতা রয়েছে।”

তবে বৈভবকে সরাসরি মহাতারকাদের তালিকায় বসাতে রাজি নন মদন লাল। তাঁর মতে, কিংবদন্তি হতে গেলে টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন পরীক্ষায় নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। মদন লালের পরামর্শ, অবিলম্বে বৈভবকে ‘ইন্ডিয়া এ’ দলের হয়ে তিন দিনের ম্যাচ বা আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের মতো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে খেলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটীয় পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত করে তোলা প্রয়োজন। তবেই তিনি জাতীয় দলের মূল স্রোতে জায়গা পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠবেন।

ভারতের বর্তমান টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের শীর্ষ তিন ব্যাটারের সঙ্গে বৈভবকে তুলনায় এনে মদন লাল বলেন, “বৈভব অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন বা ঈশান কিষাণের মতোই দক্ষ। কিন্তু ওরা আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের প্রমাণ করেছেন, বৈভবকে এখনও সেই অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে।” তাঁর আশঙ্কা, এই প্রতিভার আগমনে বর্তমান দলের কিছু অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের জায়গা নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। তবে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি পরামর্শ দেন, বৈভবকে দলে সুযোগ দিলে যেন তাঁকে বাইরে বসিয়ে রেখে আত্মবিশ্বাস নষ্ট না করা হয়।

মদন লালের মতে, পরবর্তী স্তরের জন্য প্রস্তুতির বড় ধাপ হলো ক্রিকেটের দীর্ঘতর সংস্করণ। বৈভব কোন পজিশনে ব্যাট করবে তা বড় কথা নয়, দলের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে দলের কম্বিনেশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রয়োজন পড়লে সাজঘরে বসে দলের সিনিয়রদের খেলা দেখা এবং শেখার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে। ভারতীয় ক্রিকেটের এই নতুন বিস্ময়কে সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে তিনি আগামী দিনের সর্বকালের সেরা ব্যাটার হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখেন, এমনটাই মনে করছে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ মহল। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, ১৫ বছরের এই কিশোর আন্তর্জাতিক ময়দানে নিজের জাত কতটা চেনাচ্ছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy