তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটল? ৫০ বিধায়কের বিদ্রোহে কি আসন্ন মহারাষ্ট্র মডেল!

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে যেন ভূমিকম্পের পূর্বাভাস। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হওয়া প্রবল অস্থিরতা এখন আর গোপন নেই। দলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহ এবং একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি স্বাক্ষর বিতর্ককে কেন্দ্র করে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার যে দশা হয়েছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও কি সেই একই ‘মহারাষ্ট্র মডেল’ বা বিভাজনের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে?
সূত্রের খবর, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রায় ৫০ জন বিধায়ক দল ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। শুধু বিধায়ক নন, দলের একাধিক সাংসদও প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে না দিলেও, আড়ালে বিদ্রোহী নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জল্পনা তুঙ্গে। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে তলব করা জরুরি বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সেই সময়েই রথিন ঘোষের বাড়িতে একদল বিধায়কের গোপন বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও রথিন ঘোষ অসুস্থতার দোহাই দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।
এই পরিস্থিতিতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে বিধায়কদের দল ভাঙার চেষ্টা চলছে। ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক দাবি করেন, “আমার কাছে চারজন বিধায়ক অভিযোগ করেছেন যে পুলিশ তাঁদের হুমকি দিচ্ছে। বলা হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় গেলে অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার করা হবে। বিজেপির এই স্বৈরাচারী আচরণ গণতন্ত্রের চরম অবমাননা।” পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরে কিছু ‘বিশ্বাসঘাতক’ নেতা রয়েছেন যারা বিজেপির মদতে কাজ করছেন বলেও তিনি অভিযোগ তুলেছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বের একাধিপত্য এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমশ বাড়তে থাকা গুরুত্ব নিয়ে দলের প্রবীণ ও নবীন নেতাদের একাংশ দীর্ঘ সময় ধরেই অসন্তুষ্ট। সেই অসন্তোষ এখন আগ্নেয়গিরির আকার ধারণ করেছে। বহিষ্কৃত বিধায়কদের মন্তব্য এবং দলীয় সভায় অনুপস্থিতি—এই দুইয়ে মিলে এখন তৃণমূলের অন্দরে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যারিশমা কি এই বিদ্রোহ সামলে উঠতে পারবে, নাকি অদূর ভবিষ্যতে বঙ্গ রাজনীতিতে তৃণমূলের বিভাজন অনিবার্য—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।