মৃত্যুদূতকে হারিয়ে ‘মিশন ১১ মিনিটস’! এসিপি সঞ্জয় সিংয়ের বুদ্ধিতে প্রাণে বাঁচলেন আইপিএল তারকা লুঙ্গি এনগিডি

শনিবার সন্ধ্যায় আইপিএল ২০২৬-এর উত্তেজনার মাঝে হঠাৎই নেমে এল নিস্তব্ধতা। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে বোলিং করার সময় গুরুতর আহত হলেন দিল্লির পেসার লুঙ্গি এনগিডি। মাথা ও ঘাড়ের চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে এক মুহূর্ত দেরি হওয়া মানেই ছিল জীবন-মরণের প্রশ্ন। আর ঠিক সেই চরম সংকটকালে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের এসিপি সঞ্জয় সিং।

রাজধানীর রাস্তায় শনিবার সন্ধ্যার ব্যস্ততা মানেই ট্র্যাফিকের নরকযন্ত্রণা। ১০ কিলোমিটার পথ পার হতে সাধারণত সময় লাগে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা। কিন্তু সঞ্জয় সিংয়ের কাছে সেই সময়টুকু ছিল না। তিনি শুধু একজন পুলিশ অফিসার নন, তিনি একজন প্রাক্তন ক্রিকেটারও। একসময় গৌতম গম্ভীর ও বিরাট কোহলিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন তিনি। তাই এনগিডিকে মাঠে পড়ে যেতে দেখে একজন খেলোয়াড় হিসেবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা মুহূর্তেই আঁচ করতে পেরেছিলেন তিনি।

শুরু হয় ‘মিশন ১১ মিনিটস’। এসিপি সঞ্জয় সিং কন্ট্রোল রুমকে সতর্ক করে দিয়ে এক লহমায় পুরো ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা নিজের হাতে তুলে নেন। অ্যাম্বুলেন্স চালক যখন গুগল ম্যাপ দেখে এগোতে চাইছিলেন, তখন সঞ্জয় সিং নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে ড্রাইভারকে বাধা দেন। ম্যাপে যে রাস্তাটি বন্ধ দেখাচ্ছিল, সঞ্জয় সিং জানতেন সেটিই হবে দ্রুততম পথ। তিনি ড্রাইভারকে সটান নির্দেশ দেন, “ম্যাপ বাদ দিন, আমি যা বলছি সেই রাস্তা ধরুন।”

কোটলা স্টেডিয়াম থেকে রাজেন্দর নগরের বিএলকে ম্যাক্স হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিট। এসিপি-র নির্দেশিত পথে ঝড়ের গতিতে ছোটে অ্যাম্বুলেন্স। ট্র্যাফিক সিগন্যালকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গ্রিন করিডোর তৈরি করে মাত্র ১১ মিনিটে, অর্থাৎ ৬টা ২৭ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয় আহত এনগিডিকে।

সঞ্জয় সিং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দিল্লি পুলিশে কর্মরত। ড্যানিপস (DANIPS) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা প্রমান করে দিলেন যে, প্রযুক্তির চেয়েও অভিজ্ঞতার দাম অনেক বেশি। তার এই বীরত্বগাথা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নেটদুনিয়া একবাক্যে স্বীকার করছে—খেলোয়াড়ি মানসিকতা আর পুলিশের কর্তব্যনিষ্ঠা যখন এক হয়, তখন অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy