কেজরিওয়ালের পিঠে ছুরি! ৭ সাংসদ নিয়ে বিজেপিতে রাঘব চাড্ডা, ধসে গেল আপ-এর দুর্গ?

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিতে (আপ) আক্ষরিক অর্থেই ধস নামল। রাজ্যসভার দাপুটে নেতা রাঘব চাড্ডা গত সপ্তাহে আরও ৬ জন সাংসদকে সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি)। সংসদের উচ্চকক্ষে আপ-এর মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জনই এখন ‘গেরুয়া’ শিবিরের অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক জীবনে এটিই সম্ভবত সবথেকে বড় ধাক্কা।

সংবিধানের ফাঁক ও দলত্যাগ বিরোধী আইন:
ভারতের সংবিধানের ‘দশম তফসিল’ বা দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) সদস্য যদি একসঙ্গে দলবদল করেন, তবে তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হয় না। আপ-এর ক্ষেত্রে এই জাদু সংখ্যাটি ছিল ৭। রাঘব সেই অঙ্কটি নিখুঁতভাবে মিলিয়ে নিয়েছেন। ফলে তাঁরা অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার বদলে বিজেপির বৈধ সাংসদ হিসেবেই গণ্য হবেন।

পরিহাসের বিষয়: নিজের বিলের কাছেই কি হারতেন রাঘব?
২০২২ সালে রাঘব চাড্ডা নিজেই সংসদে একটি সংশোধনী বিল পেশ করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি তুলেছিলেন যে, দলবদলের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ২/৩ থেকে বাড়িয়ে ৩/৪ করা হোক এবং দলত্যাগীদের ৬ বছর নির্বাচনে লড়া নিষিদ্ধ করা হোক। যদি সেই বিল আজ আইন হতো, তবে রাঘবকে দল ছাড়তে আরও এক জন সাংসদের সমর্থন লাগত এবং তিনি পরবর্তী ৬ বছর কোনও ভোটে দাঁড়াতে পারতেন না। যে ‘হর্স ট্রেডিং’ বা ঘোড়া কেনাবেচাকে তিনি একসময় ‘গণতন্ত্রের কলঙ্ক’ বলেছিলেন, আজ সেই পথেই তাঁর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে।

কেন এই বিদ্রোহ?
সূত্রের খবর, গত ২ এপ্রিল রাঘবকে রাজ্যসভায় দলের উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই কেজরিওয়ালের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ে। দলের দাবি ছিল রাঘব মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ‘নরম সুর’ নিচ্ছেন, অন্যদিকে রাঘব শিবিরের মতে, দল তাঁকে জোর করে চুপ করিয়ে রাখতে চেয়েছিল।

ভবিষ্যৎ কোন পথে?
সামনেই পাঞ্জাব নির্বাচন। যে রাঘব চাড্ডা গত নির্বাচনে আপ-এর জয়ের কারিগর ছিলেন, তিনিই এখন বিপক্ষ শিবিরে। কেজরিওয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “বিজেপি পাঞ্জাবের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।” তবে আইনি লড়াইয়ের পথ খোলা থাকলেও, সংসদীয় পাটিগণিতে আপ এখন কোণঠাসা। ১৫ বছরের কম বয়সী একটি দলের কাছে এটি এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy