“উচ্ছ্বাস নেই, নেই সেলিব্রেশন!”-সুপার ওভারে উইকেট নেওয়ার পর কেন ‘বরফ’ হয়ে রইলেন নারিন?

আইপিএলের শুরুতে যাঁকে নিয়ে হাজারও প্রশ্ন তুলেছিলেন সমালোচকরা, আজ সেই সুনীল নারিনকেই মাথায় তুলে নাচছেন কেকেআর সমর্থকরা। রবিবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল, কেন তাঁকে ‘ম্যাজিক ম্যান’ বলা হয়। সুপার ওভারের কঠিন চাপে বল হাতে এসে মাত্র ২ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিলেন তিনি। প্রায় হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া জয় ছিনিয়ে আনল কলকাতা।

কার বুদ্ধিতে সুপার ওভারে নারিন? রবিবার ম্যাচের পর থেকেই নাইট সমর্থকদের মনে একটা বড় প্রশ্ন ছিল— সুপার ওভারে নারিনকে বল দেওয়ার সিদ্ধান্তটা কার? অধিনায়ক না কি অন্য কেউ? ম্যাচ শেষে রহস্য ফাঁস করে নারিন জানান, “সব কোচরাই একসুরে বলেছিলেন আমার বল করা উচিত। আমিও রাজি হয়ে যাই।” নারিনের মতে, সুপার ওভারের চাপ সামলানো কঠিন হলেও, প্রথম ওভার বল করাটা মানসিক দিক থেকে কিছুটা সহজ।

কেন নেই সেলিব্রেশন? লখনউয়ের ইনিংস শেষ করে দেওয়ার পরও নারিনের মুখে সেই চেনা গাম্ভীর্য। কোনো উল্লাস নেই, লাফঝাঁপ নেই। সঞ্চালকের প্রশ্নের জবাবে সপ্রতিভ নারিন বলেন, “ক্রিকেট খুব কঠিন খেলা। এখানে উচ্ছ্বাস নিয়ে ভাবার সময় থাকে না। আমি এসব নিয়ে চিন্তাও করি না।” আসলে উইকেট নেওয়াটাই যাঁর নেশা, তাঁর কাছে সেলিব্রেশনটা যেন গৌণ!

পুরানকে ফেরানোর ছক: প্রথম বলেই বিপজ্জনক নিকোলাস পুরানকে আউট করে লখনউয়ের কোমর ভেঙে দেন নারিন। তবে ক্যারেবিয়ান স্পিনার জানালেন, আগে থেকে কোনো জটিল পরিকল্পনা ছিল না। পরিস্থিতির দাবি মেনেই বল করেছেন তিনি। দলের টানা জয়ের পর নারিনের বার্তা, “আমরা একটা সময় বেশ ধুঁকছিলাম। এখন একটা একটা করে ম্যাচ ধরে এগোতে হবে, তবেই সাফল্য আসবে।”

জুনিয়র কার্তিক ত্যাগির পাশে ‘বড় দাদা’: এদিন শেষ ওভারে জোড়া নো বল করে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তরুণ পেসার কার্তিক ত্যাগি। তবে জুনিয়রের পাশে দাঁড়িয়েছেন নারিন। তাঁর মতে, এমন কঠিন পরিস্থিতি সিনিয়র-জুনিয়র সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই কার্তিক আগামীতে নিজেকে শুধরে নেবে বলে বিশ্বাস তাঁর।

সুপার ওভারে বল করতে আসার সময় গোটা টিমের সমর্থনই তাঁকে নির্ভার রেখেছিল বলে জানান এই ‘মৌনী’ নাইট সেনাপতি।