উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে প্রতি মুহূর্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিছক অপরাধ নয়, বরং এটি যে একটি সুপরিকল্পিত এবং ঠান্ডা মাথার ‘টার্গেট কিলিং’, তা নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত তদন্তকারীরা। খুনের আগে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে এলাকায় রেইকি করেছিল ঘাতকরা। বুধবার বিকেল ৩টে ৫৭ মিনিট নাগাদ দোলতলা সাহারা ব্রিজের সিসিটিভি ফুটেজে একটি সন্দেহভাজন চারচাকা গাড়ি দেখা গিয়েছে, যা খুনের প্রায় ৬ ঘণ্টা আগে এলাকায় ঢুকেছিল। পুলিশের অনুমান, চন্দ্রনাথের গতিবিধি নজর করতে এবং পালানোর পথ ছকতেই এই দীর্ঘ সময় এলাকায় ঘোরাঘুরি করেছিল খুনিরা।
তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, খুনিরা এতটাই পেশাদার ছিল যে তারা অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর প্লেট বদলে দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, গাড়িটি যাতে শনাক্ত করা না যায়, সেই জন্য ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছিল চেসিস নম্বরও। রাত ১০টার পর যখন চন্দ্রনাথবাবু গাড়ি করে ফিরছিলেন, তখন এই চারচাকা গাড়িটি পিছন থেকে এসে হঠাৎ তাঁর গাড়ির সামনে আড়াআড়ি ভাবে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে। এরপরই দু’টি বাইকে আসা তিন আততায়ী জানলার কাচে বন্দুক ঠেকিয়ে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে দু’টি গুলি এবং মাথায় একটি গুলি লাগে। এই ভয়াবহ হামলায় তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরাও তিনটি গুলি খেয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খুনের পর ঘাতকরা দু’টি আলাদা পথে চম্পট দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, একটি বাইক যশোর রোডের দিকে গিয়েছে এবং অন্যটি রাজারহাট বা মধ্যমগ্রাম চৌমাথার দিকে মোড় নিয়েছে। তবে হেলমেট পরা থাকায় এবং সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির নম্বর স্পষ্ট না হওয়ায় ঘাতকদের চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা— ঠিক কী কারণে শুভেন্দুর এই ‘ছায়াসঙ্গী’কে মরতে হলো, তার উত্তর খুঁজছে প্রশাসন।





