বিনা কোচিংয়েই বাজিমাত! ইউটিউব দেখে পড়াশোনা করেই ঝাড়খণ্ড বোর্ডে স্টেট টপার ধানবাদের রাশিদা

ঝাড়খণ্ড অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল (JAC) আয়োজিত ২০২৬ সালের দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করলেন রাশিদা নাজ। কোনো নামী কোচিং সেন্টার বা অফলাইন টিউশনের সাহায্য ছাড়াই শুধুমাত্র ইউটিউব এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে হাতিয়ার করে তিনি বিজ্ঞানে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ৫০০-এর মধ্যে ৪৮৯ নম্বর (৯৭.৮%) পেয়ে রাশিদা এখন ধানবাদ তথা গোটা রাজ্যের গর্ব।

সাফল্যের নেপথ্যে ইউটিউব ও স্বনির্ভর পড়াশোনা:
ধানবাদের পাথারডিহের ডিএভি হাই স্কুলের ছাত্রী রাশিদা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। দশম শ্রেণিতেও তিনি ৯৪% নম্বর পেয়েছিলেন। রাশিদা জানান, তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের পিছনে কোনো দামী কোচিংয়ের অবদান নেই। তিনি সম্পূর্ণভাবে ইউটিউবের শিক্ষামূলক চ্যানেল এবং অনলাইন মাধ্যমের ওপর নির্ভর করেছিলেন। রাশিদার মতে, “পড়াশোনা কতক্ষণ করছি, তার চেয়েও বড় কথা হলো কতটা মনোযোগ দিয়ে করছি।” তিনি প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন।

নিজের নোট নিজেই তৈরি:
রাশিদার সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হলো তাঁর নিজের হাতে তৈরি করা নোটস। তিনি এনসিইআরটি (NCERT) পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি লাইন খুঁটিয়ে পড়তেন এবং সেখান থেকে নিজের মতো করে নোট তৈরি করতেন। তাঁর বিশ্বাস, অন্যের তৈরি মেটেরিয়ালের চেয়ে নিজের তৈরি নোট অনেক বেশিদিন মনে থাকে। পাশাপাশি, সিলেবাস সময়ের অনেক আগে শেষ করে ফেলায় তিনি রিভিশনের জন্য প্রচুর সময় পেতেন।

কঠোর রুটিন ও পরিবারের সমর্থন:
রাশিদার দিন শুরু হতো ভোর ৪টেয়। সকাল ৮টা পর্যন্ত একটানা পড়াশোনা করে তিনি স্কুলে যেতেন। স্কুল থেকে ফিরে কিছুটা সময় বিশ্রাম নিয়ে পুনরায় রাত ১০টা পর্যন্ত চলত পাঠ্যক্রমের চর্চা। এই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁর বড় বোন এবং স্কুলের শিক্ষক সঞ্জয় স্যার তাঁকে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করেছেন। কঠিন বিষয় হিসেবে পদার্থবিদ্যাকে বেছে নিয়ে তাতে অতিরিক্ত সময় দিতেন তিনি।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য:
গণিত রাশিদার প্রিয় বিষয় হলেও পদার্থবিদ্যার জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানে তিনি দক্ষ হয়ে উঠেছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি বিএসসি (BSc) করতে চান এবং ভবিষ্যতে একজন অধ্যাপক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখতে চান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy