টোটো ছেড়ে জলাজমিতে ‘সোনা’ ফলাচ্ছেন মালদহের যুবক! বিঘা প্রতি ২০ হাজার লাভে ভাগ্যবদল প্রসেনজিতের

একসময় যে জলাভূমিগুলো মশা আর আগাছার আস্তানা হিসেবে পড়ে থাকত, আজ সেখানেই হিরের দ্যুতি দেখছেন মালদহের এক যুবক। উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে অভাবের তাড়নায় হাতে তুলে নিয়েছিলেন টোটোর হ্যান্ডেল। কিন্তু ভাগ্যের চাকা যেন কিছুতেই ঘুরছিল না। অবশেষে পরিত্যক্ত জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে মাখানা চাষে বিপ্লব ঘটিয়ে প্রসেনজিৎ বসাক আজ জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

অভাবের সংসারে লড়াইয়ের শুরু:
মালদহ জেলার ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দারশোলা তাঁতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ বসাক। পড়াশোনা করে বড় হওয়ার স্বপ্ন ছিল দু’চোখে। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতা সব ওলটপালট করে দেয়। উচ্চমাধ্যমিকের পর বই-খাতা তুলে রেখে পরিবারের হাল ধরতে টোটো চালানো শুরু করেন। তবে টোটোর যৎসামান্য আয়ে দিন আনা দিন খাওয়ার সংসারে টানাটানি মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

টোটো ছেড়ে জলাজমিতে ‘সোনা’র সন্ধান:
নতুন কোনো বিকল্প আয়ের খোঁজে যখন প্রসেনজিৎ মরিয়া, তখনই তাঁর চোখে পড়ে এলাকার পরিত্যক্ত জলাভূমিগুলো। দাদার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমে মাত্র দুই বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাখানা চাষ শুরু করেন। প্রথমবারেই অভাবনীয় সাফল্য মেলায় তিনি আর পিছন ফিরে তাকাননি। বর্তমানে প্রায় সাত বিঘা জমি লিজ নিয়ে পুরোদমে মাখানা চাষ করছেন তিনি। প্রসেনজিৎ জানান, “পড়াশোনা করে ভালো চাকরি করার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু টোটো চালিয়ে সংসার চলত না। এখন মাখানা চাষ করে বিঘা প্রতি প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট লাভ হচ্ছে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তার আর্জি:
মালদহের হরিশচন্দ্রপুর এলাকায় মাখানার বিশাল বাজার রয়েছে। উৎপাদিত ফসল সরাসরি সেখানেই বিক্রি করেন প্রসেনজিৎ। তবে তাঁর মতে, এলাকায় যদি একটি সরকারি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র বা প্রসেসিং ইউনিট গড়ে ওঠে, তবে তাঁর মতো আরও অনেক বেকার যুবক এই চাষে এগিয়ে আসবে। বর্তমানে সাত বিঘা জমি সামলালেও, সরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও ১৫ বিঘা জমিতে এই চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মালদহের এই যুবকের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেক বেকার যুবকই এখন পরিত্যক্ত জলাভূমি লিজ নিয়ে মাখানা চাষের কথা ভাবছেন।