ফাইল লোপাটের আশঙ্কাই সত্যি! সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তাড়া খেয়ে নথিপত্র ফেরালেন তৃণমূলপন্থী কর্তা

রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের আবহে নবান্ন থেকে স্বাস্থ্যভবন— সর্বত্রই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারা আর ফাইল লোপাটের আশঙ্কায় টানটান উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল। এবার সেই একই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নব মহাকরণ বা নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং। অভিযোগ, সরকারি ফাইল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিলেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের এক তৃণমূলপন্থী আধিকারিক। তবে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যদের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলের দিকে নব মহাকরণে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

ঘটনার সূত্রপাত ও বদলি বিতর্ক:
পুরো বিষয়টি দানা বাঁধে তিন আধিকারিকের অনৈতিক বদলিকে কেন্দ্র করে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্য তথা শিল্প উন্নয়ন আধিকারিক সুদীপ চন্দ অভিযোগ করেন, বছরখানেক আগে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন করার অপরাধে তাঁদের তিনজনকে রাজ্যের সীমানা লাগোয়া এলাকায় বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তৃণমূলপন্থী কর্মচারী সংগঠনের প্যাডে এক আধিকারিকের সুপারিশ মেনেই কালচিনি, মিরিক ও নিয়াগ্রামে তাঁদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় মামলা গড়ায় স্যাট (SAT) এবং পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টে।

আদালতে সরকার বনাম সত্য:
আদালতে লড়াই চলাকালীন আন্দোলনকারী আধিকারিকরা সেই গোপন চিঠির প্রতিলিপি পেশ করেন। যদিও পূর্বতন সরকার হলফনামা দিয়ে দাবি করেছিল যে, ওই নথিগুলি সম্পূর্ণ ‘জাল’। কিন্তু বুধবার নব মহাকরণে অভিযুক্ত আধিকারিককে ঘিরে ধরে যখন জেরা শুরু হয়, তখন তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে চাপের মুখে ফাইল থেকে সরিয়ে রাখা সেই ‘আসল’ নথিপত্র বের করে দিতে বাধ্য হন। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দাবি, পুলিশের ভয় দেখাতেই নথিপত্রগুলি ফাইলে পুনরায় ঢুকিয়ে দেন ওই আধিকারিক।

ভাস্কর ঘোষের হুঁশিয়ারি ও পুলিশি পদক্ষেপ:
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “আমরা জানতাম নথিপত্র লোপাট করার চেষ্টা হবে। আজ প্রমাণ হয়ে গেল কীভাবে জালিয়াতি করে আন্দোলনকারীদের হেনস্তা করা হয়েছে। যাঁরা এই অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না।” ইতিমধ্যে সেই বিতর্কিত ফাইলটি হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেটি বর্তমানে পুলিশি হেপাজতে রয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এই চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ হাতে আসায় তাঁরা পুনরায় আইনি পথে হাঁটবেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানাবেন। রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে সরকারি দপ্তরে নথি উদ্ধারের এই ঘটনা নয়া বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy