ভোটের ফল বেরোতেই বঙ্গ রাজনীতির আঁচ এবার টলিউডের অন্দরে। প্রযোজক সংগঠন ‘ইমপা’ (EIMPA)-র দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত কুরুক্ষেত্র বেঁধে গেল টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগ দাবি করে সরব হয়েছেন প্রযোজক ও হল মালিকদের একাংশ। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, সংগঠনের অফিস চত্বরে ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করতে হয় এবং নামাতে হয় আধা-সামরিক বাহিনী।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার থেকেই। বিরোধী শিবিরের নেতা তথা পরিবেশক শতদীপ সাহার নেতৃত্বে একদল প্রযোজক দাবি তোলেন, ইমপা-কে অবিলম্বে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। তাঁদের মূল লক্ষ্য সংগঠনকে ‘তৃণমূলমুক্ত’ করা। বুধবার ইমপা অফিসের সামনে গঙ্গাজল ছিটিয়ে প্রতীকী ‘শুদ্ধিকরণ’ করেন আন্দোলনকারীরা। শতদীপ সাহার সাফ কথা, “শুধু গঙ্গাজলে হবে না, পিয়া সেনগুপ্তকে পদত্যাগ করতেই হবে। আমরা চাই বিনোদন দুনিয়া থেকে রাজনীতির ছায়া সরে যাক।”
বিরোধীদের অভিযোগ, হাই কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে ভোট করিয়ে সভাপতি হয়েছেন পিয়া। যদিও এই দাবি নস্যাৎ করেছেন পিয়া সেনগুপ্ত। তাঁর পাল্টা দাবি, “উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে সিসিটিভি ফুটেজ মেনে বৈধ নির্বাচন হয়েছে। পরাজয় মেনে নিতে না পেরে এখন গায়ের জোরে আমায় সরানোর চেষ্টা হচ্ছে।” বুধবারের বৈঠকে তাঁকে ও সদস্য শরৎ মুখোপাধ্যায়কে চূড়ান্ত হেনস্থা ও শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। নিরাপত্তার খাতিরে ব্যাঙ্কশাল আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন জানায় ইমপা কর্তৃপক্ষ।
সংঘাতের আবহে উঠে এসেছে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগও। পরিচালক জয়ব্রত দাসের একটি ছবি মুক্তির বিনিময়ে পিয়া সেনগুপ্ত ৮ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। জবাবে পিয়া জানান, কলাকুশলীদের বকেয়া টাকা মেটাতেই ওই অর্থ চাওয়া হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ আইনসম্মত। পাল্টাক্ষেপ করে তিনি বলেন, বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিরাই পরে ১২ লক্ষ টাকা ফেডারেশনের হাতে তুলে দিয়েছেন, যা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে মিথ্যা প্রমাণ করে।
বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ ও বিশেষ অপরাধ দমন শাখার উপস্থিতিতে দু’পক্ষের বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে শতদীপ সাহা একে ‘নৈতিক জয়’ বলে দাবি করেন। তিনি জানান, শুক্রবার ২৪ জন সদস্যের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত বৈঠক হবে। আগামী দিনে টলিউডে কোনও ‘নিষেধাজ্ঞা সংস্কৃতি’ চলবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অন্যদিকে, পিয়া সেনগুপ্ত পদ না ছাড়ার জেদে অনড় থাকায় আগামী দিনে টলিউডের এই ক্ষমতার লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





