উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি এবং পাহাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এবার কি তবে ‘ইউপি মডেল’ বা যোগী আদিত্যনাথের বুলডোজার নীতি কার্যকর হতে চলেছে? দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি মহকুমাশাসকের (SDO) দফতরে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কার্যত রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, সরকারি জমি দখল করে তৈরি করা কোনো অবৈধ কাঠামোই আর রেহাই পাবে না।
এদিন এসডিও অফিসের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিকর এবং জেলা পুলিশ সুপার সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। বৈঠক শেষে রাজু বিস্তা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে জানান, শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার পূর্ণ প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি আগাম প্রস্তুতি হিসেবে উত্তরপ্রদেশ থেকে দুই ডজন (২৪টি) জেসিবি বা বুলডোজার অর্ডার দিয়েছি। এই জেসিবিগুলো দিয়েই শহরের সমস্ত বেআইনি নির্মাণ ও সরকারি জমি দখল করে তৈরি হওয়া কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”
সাংসদ রাজু বিস্তা এদিন অবৈধ নির্মাণকারীদের উদ্দেশ্যে একপ্রকার ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ দিয়ে বলেন, “প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই আপনারা নিজেদের উদ্যোগে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলুন। কারণ জেসিবি যখন কাজ শুরু করবে, তখন পাশের বৈধ জিনিসেরও ক্ষতি হতে পারে, তার দায় কিন্তু প্রশাসনের নয়।” শুধু নির্মাণ নয়, অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতেও কড়া দাওয়াই দিয়েছেন তিনি। শহরে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের একটি তালিকা তিনি প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছেন এবং শিলিগুড়িকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছেন।
নদী থেকে অবৈধ খনিজ উত্তোলন এবং বালি মাফিয়াদের দাপট নিয়ে সরব হয়ে তিনি জানান, গরিব মানুষরা জীবনধারণের জন্য নদী থেকে সামান্য বালি-পাথর তুললে কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু মাফিয়া রাজ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। সেই সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ীদের থেকে গুন্ডা ট্যাক্স আদায়, অবৈধ টোল প্লাজা এবং লাইসেন্সহীন পানশালা বা পাবগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। উত্তরবঙ্গে রাজু বিস্তার এই ‘বুলডোজার মডেল’ প্রয়োগের ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীরা একে ‘ভয়ের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করলেও, সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন শহরের শ্রী ফেরাতে এই কড়া পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল।





