মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রাক্তন স্পেশালিস্ট তথা প্রতি-গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিকা উইটকে নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল এফবিআই (FBI)। ২০১৯ সালে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত এই মহিলাকে ধরিয়ে দিতে পারলে ২ লক্ষ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের এক বিবৃতিতে এই পুরস্কারের কথা জানানো হয়।
এফবিআই-এর আশঙ্কা, ২০১৩ সালে ইরানে পালিয়ে যাওয়া মনিকা উইট বর্তমানে সেখানেই আত্মগোপন করে আছেন এবং ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করে আমেরিকার ক্ষতি করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিমান বাহিনীর বিশেষ তদন্ত দপ্তরে কর্মরত থাকাকালীন ২০০৩ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত একাধিক গোপন মিশনে যুক্ত ছিলেন তিনি। সেই সময়কার সংবেদনশীল তথ্য ও মার্কিন গোয়েন্দা জাল সম্পর্কে তাঁর কাছে যে তথ্য রয়েছে, তা শত্রু দেশের হাতে পৌঁছে যাওয়ায় মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড়সড় হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংস্থার এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা মনিকা উইটকে ভুলে যাইনি। ইরানের ইতিহাসের এই বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে আমরা নিশ্চিত যে কেউ না কেউ তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানেন। আপনাদের সামান্য তথ্যের বিনিময়ে ২ লক্ষ ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে, যাতে তাঁকে বিচারের আওতায় আনা যায়।” উল্লেখ্য, এই ‘সংকটময় মুহূর্ত’ বলতে বর্তমান আমেরিকা-ইরান উত্তেজনার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০১৯ সালে উইটের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল, সেখানে অভিযোগ করা হয় যে তিনি ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নথি ইরানিদের হাতে তুলে দিতে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি ছাড়ার পর তিনি পুরোপুরি ইরানি গোয়েন্দাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যান। ইরান সরকার তাঁকে থাকার জন্য বাসস্থান এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। উইটের পাশাপাশি এই ষড়যন্ত্রে সহায়তার অভিযোগে চারজন ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই রহস্যময়ী গোয়েন্দাকে খুঁজে বের করতে এফবিআই-এর এই পুরস্কার ঘোষণা বিশ্বজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।





