রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য একগুচ্ছ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী বা বার্ধক্য ভাতা—তৃণমূল জমানার এই প্রকল্পগুলি বাংলার ঘরে ঘরে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা বর্তমানে মাসে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ঘোষিত ‘যুবশক্তি’ প্রকল্প।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, রাজ্যের বেকার তরুণ-তরুণীদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। নির্বাচনী ইস্তেহারে মাসে ৩০০০ টাকা ভাতার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে। শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যে ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হতে চলেছে। এই প্রকল্পে যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন।
তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো—যাঁরা আগে ‘যুবশ্রী’ বা এই জাতীয় প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁরা কি সরাসরি টাকা পাবেন? সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, পুরনো কোনো আবেদনের ভিত্তিতে এই টাকা দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, প্রতিটি বেকার যুবক-যুবতীকে ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের সুবিধা নিতে সম্পূর্ণ নতুন করে আবেদন করতে হবে। পুরনো উপভোক্তা হোন বা নতুন আবেদনকারী—সকলকেই নতুন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রকল্পের জন্য একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ অনলাইন পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে। ভাতার ফর্ম শীঘ্রই অনলাইনে মিলবে। তবে আগের ব্যবস্থার ত্রুটিগুলি দূর করে পোর্টালটিকে আরও উন্নত ও নির্ভুল করার কাজ চলছে। তাই ঠিক কোন তারিখ থেকে ফর্ম ডাউনলোড করা যাবে, তা শীঘ্রই সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। আবেদন জমা পড়ার পর প্রতিটি ফর্ম স্ক্রুটিনি বা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা হবে। কেবল যোগ্য প্রার্থীদেরই চূড়ান্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন যে, তৃণমূল জমানার জনপ্রিয় প্রকল্পগুলো এখনই বন্ধ হচ্ছে না, বরং সেগুলির পাশাপাশি নতুন এই বর্ধিত ভাতার সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ৩০০০ টাকার এই বিপুল ভাতার ঘোষণা স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে। এখন দেখার, জুন মাসের শুরুতেই কত দ্রুত এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করে সরকার মানুষের হাতে টাকা তুলে দেয়।





