১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনের শুরু থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য। নতুন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর নির্বাচনের পর শুক্রবার বিধানসভার অন্দরে দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। একদিকে যখন ঘরছাড়া ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তুমুল তরজা চলছে, ঠিক তখনই ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর কণ্ঠে শোনা গেল এক অন্য সুর। একদিকে তিনি যেমন সুর চড়ালেন বিরোধীদের বাক-স্বাধীনতার পক্ষে, তেমনই আবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতা তাপস রায়ের বক্তব্যের প্রশংসাও করলেন মুক্তকণ্ঠে।
‘রাজনীতি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম’— বিস্ফোরক নওশাদ
এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে উঠে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নিজের যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন ভাঙড়ের বিধায়ক। নওশাদ বলেন, “নির্বাচনের পর আমি এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম, যাতে মনে হচ্ছিল রাজনীতিটাই ছেড়ে দিই।” সেই কঠিন সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশ্যে আবেদন জানান, এবার যেন এই ধরণের ঘটনাগুলির দিকে প্রশাসন বিশেষ নজর দেয়।
শুভেন্দু-তাপসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভাইজান
এদিনের অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, তিনি গঠনমূলক বিরোধিতা চান এবং বিধানসভাকে মারামারির জায়গায় পরিণত করতে চান না। পাশাপাশি বিরোধীদের কণ্ঠ যাতে রোধ না করা হয়, সেই আবেদনও জানান স্পিকারের কাছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান এবং নোটিস ছাড়া ঘরছাড়াদের তালিকা চাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন নওশাদ।
একইভাবে প্রবীণ নেতা তাপস রায়ের বক্তব্যেরও প্রশংসা শোনা যায় তাঁর মুখে। নওশাদ হাসিমুখে বলেন, “সত্যি আজ বসে খুব অনুভব করছিলাম আর মনে মনে হাসছিলাম। তাপস রায়বাবু যে কথাগুলি বলছেন, তা খুব একটা ফেলে দেওয়ার মতো নয়।”
পুরনো সরকারের জমানাকে খোঁচা
আগের বিধানসভার অভিজ্ঞতা টেনে নাম না করে তৃণমূল কংগ্রেসকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি আইএসএফ বিধায়ক। তিনি বলেন, “এবার আমাকে বক্তব্য পেশ করার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর আগে বিরোধীদের বক্তব্য মাঝপথেই বন্ধ করে দেওয়া হত।” পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে চিঠি পাঠালেও আগে কোনও উত্তর মিলত না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তবে এবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিরোধীদের কথা শুনবেন বলে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন নওশাদ।
লাইভ সম্প্রচারের সিদ্ধান্তে সাধুবাদ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তকে একবাক্যে মেনে নিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই জানতে পারবেন তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভেতরে কী বলছেন, তাঁদের স্বার্থে কী আইন তৈরি হচ্ছে।
তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় যখন সরকারের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচারের পদধ্বনি’ শোনার অভিযোগ তুলছেন, তখন নওশাদের এই ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রশংসাসূচক বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিধানসভার প্রথম দিনেই নওশাদের এই বার্তা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কোন নতুন সমীকরণের জন্ম দেয়, এখন সেটাই দেখার।





