হিন্দু ধর্মে ঠাকুরঘর বা পুজোর স্থানকে বাড়ির সবথেকে পবিত্র এবং ইতিবাচক শক্তির আধার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাস্ত্র মতে, শুদ্ধ মনে এবং সঠিক নিয়ম মেনে প্রতিদিনের নিত্যপুজো করলে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। তবে কেবল পুজো করলেই হবে না, পুজোর ঘর পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রেও বাস্তুশাস্ত্র এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সামান্য ভুলে দেবী লক্ষ্মী রুষ্ট হতে পারেন, যার ফলে পরিবারে নেমে আসতে পারে নেতিবাচক প্রভাব।
জ্যোতিষশাস্ত্রবিদদের মতে, ঠাকুরঘর পরিষ্কার করার জন্য শনিবার হল সবথেকে প্রশস্ত দিন। এই দিনে পুজোর ঘর এবং সিংহাসন পরিষ্কার করলে গৃহস্থের উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধি দ্রুত ঘটে। তবে মনে রাখবেন, একাদশী, পূর্ণিমা বা অমাবস্যার মতো শুভ তিথিতে কখনোই ঠাকুরঘর মোছা বা ঘষাঘষি করা উচিত নয়। এতে অশুভ প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
ঠাকুরের বিগ্রহ বা সিংহাসন পরিষ্কারের সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। দেবতাকে বা বিগ্রহকে কখনও সরাসরি মাটিতে রাখবেন না। পরিবর্তে একটি শুদ্ধ পরিষ্কার কাপড় বা কাঠের জলচৌকি বিছিয়ে তার ওপর বিগ্রহ স্থাপন করুন। পুজোর আগে ও ঘর পরিষ্কারের পর অবশ্যই পুরো ঘরে ও সিংহাসনে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন। এটি স্থানটিকে পবিত্র করে তোলে।
প্রদীপ জ্বালানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ সতর্কতা। পোড়া সলতে বা নোংরা প্রদীপে পুনরায় আলো জ্বালাবেন না। প্রতিদিন প্রদীপটি ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নতুন সলতে দিন। এটি পরিবারের বাধা-বিপত্তি দূর করতে সহায়ক। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় আরতির সময় কর্পূর জ্বালালে ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়।
সবশেষে মনে রাখবেন, স্নান না সেরে বা অশুদ্ধ শরীরে কখনও ঠাকুরঘর স্পর্শ করবেন না। পুজোর জোগাড় করার সময়ও এই নিয়ম মেনে চলা জরুরি। মেঝেতে সরাসরি না বসে কুশন বা কম্বলের আসনে বসে ভক্তিভরে আরাধনা করলে সংসারে চিরকাল সুখ বিরাজ করে।





