নবান্ন নয়, এবার সরাসরি জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে বিরাট পদক্ষেপ

সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে এবং প্রশাসনের সঙ্গে আমজনতার দূরত্ব কমিয়ে আনতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শীঘ্রই রাজ্যে শুরু হতে চলেছে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি। নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শুনবেন। প্রশাসনের এই নয়া উদ্যোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, এই ‘জনতার দরবার’ সপ্তাহে একদিন বা দুই দিন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি সেশন অন্তত দুই ঘণ্টা স্থায়ী হবে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের আর্জি শুনবেন। তবে তিনি একা নন, দ্রুত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে তাঁর সঙ্গে থাকবেন রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ এক বা একাধিক আধিকারিক। অভিযোগ শোনা মাত্রই যাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির প্রস্তুতি নিতে তোড়জোড় শুরু করেছেন রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরের আধিকারিকরা। কীভাবে এই দরবার পরিচালিত হবে, কোন জায়গায় সাধারণ মানুষ জমায়েত করবেন এবং অভিযোগ নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া কী হবে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বা ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ফাইলবন্দি অভিযোগের পাহাড় না জমিয়ে সরাসরি মানুষের সমস্যার সুরাহা করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, এই ‘জনতার দরবার’ ধারণাটি বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যে অত্যন্ত সফল। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দীর্ঘ সময় ধরে এই কর্মসূচির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমস্যার সমাধান করেছেন। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝিও ‘জনশুনানি’ নামে একই ধরনের কর্মসূচি শুরু করেছেন। এবার সেই একই মডেলে বাংলায় ‘জনতার দরবার’ চালু করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী।

যদিও বিষয়টি বর্তমানে পরিকল্পনা স্তরে রয়েছে, তবে প্রশাসনের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের এই নতুন কৌশল আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy