নির্বাচনী ইতিহাসে এর আগে বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের খবর শোনা গেলেও, এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফায় সামনে এল এক চূড়ান্ত বিচিত্র কারচুপির কৌশল। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা এবং মগরাহাট বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএম (EVM) মেশিনে কারসাজি করার এক অভিনব ও ‘সুগন্ধী’ ছক ধরে ফেলল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ উঠেছে, একটি বিশেষ দলের নির্বাচনী প্রতীকের বোতামে কড়া গন্ধযুক্ত আতর এবং সূক্ষ্ম স্বচ্ছ সেলোটেপ ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হন এবং নির্দিষ্ট একটি চিহ্নেই ভোট দিতে বাধ্য হন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকালে। ফলতার বেশ কিছু বুথে ভোটাররা অভিযোগ করেন যে, ব্যালট ইউনিটে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের ওপর হাত দিলেই কড়া গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। একই চিত্র দেখা যায় মগরাহাটের বুথগুলোতেও। তদন্তে নেমে নির্বাচনী আধিকারিকরা দেখেন, বিরোধীদের প্রতীকের ওপর অত্যন্ত কৌশলে স্বচ্ছ টেপ আটকে রাখা হয়েছে, যাতে বোতাম টিপলেও ভোট নথিভুক্ত না হয়। অন্যদিকে, পছন্দের প্রতীকের গায়ে আতর মাখিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে অশিক্ষিত বা বয়স্ক ভোটাররা সহজেই সেই সুগন্ধ অনুসরণ করে নির্দিষ্ট প্রতীকেই বোতাম টেপেন।
এই ‘আতর ও টেপ’ কৌশলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো। বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই এই কাজ করেছে যাতে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায়। যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বেশ কিছু বুথে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইভিএমগুলো পরীক্ষা করেন এবং বেশ কিছু বিতর্কিত মেশিন সিল করে দেওয়া হয়।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) আরিজ আফতাব এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ইভিএম জালিয়াতির এই ধরণের মেথড অত্যন্ত নজিরবিহীন। আমরা সেক্টর অফিসারদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছি। বুথের ভেতরে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি প্রমাণিত হয় যে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের প্রভাব পড়েছে, তবে ফলতা ও মগরাহাটের ওই নির্দিষ্ট বুথগুলোতে ফের নির্বাচন (Repoll) করার সুপারিশ করা হবে।” ইতিমধ্যে এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এই অভিনব কারচুপি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।





