ভোট মিটতেই নদীয়ায় তুলকালাম! ডিসিআরসি-র ছেঁড়া ত্রিপল ঘিরে ইভিএম বদলের বিস্ফোরক অভিযোগ!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইভিএম (EVM) ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল নদীয়ার পলাশিপাড়ায়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ডিসিআরসি সেন্টারে রাখা ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট মেশিন বদলে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। বিজেপির দাবি, রাতের অন্ধকারে শাসকদলের মদতে সুপরিকল্পিতভাবে ইভিএম পাচার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। পলাশিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য বেতাই পলিটেকনিক কলেজে তৈরি করা হয়েছিল ডিসিআরসি সেন্টার। সেখানেই কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল ভোটদান হওয়া মেশিনগুলো। আজ সকালে সেই ইভিএম ও ভিভিপ্যাটগুলি বেতাই ডঃ বি. আর. আম্বেদকর কলেজের মূল স্ট্রং রুমে স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তখনই নজরে আসে এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। দেখা যায়, ডিসিআরসি সেন্টারের অস্থায়ী প্যান্ডেলের পিছন দিকে ত্রিপল ও কাপড় ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্যান্ডেলের ওই অংশটি তুলনামূলকভাবে নির্জন এবং ঝোপঝাড়ে ঘেরা।

বিজেপি প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, এই নির্জনতার সুযোগ নিয়েই রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা ত্রিপল কেটে ভেতরে ঢোকে এবং আসল ইভিএম বদলে ভুয়ো মেশিন রেখে দেয়। গেরুয়া শিবিরের দাবি, “পলাশিপাড়ায় বিজেপি নিশ্চিত জয়ের দিকে এগোচ্ছে বুঝেই শাসকদল মরিয়া হয়ে এই কারচুপি করেছে।” বিজেপির পক্ষ থেকে ইতিমিধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে এই ঘটনার ভিডিও প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, গত রাতে এলাকায় ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হয়েছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ওই অস্থায়ী প্যান্ডেলের ত্রিপল ছিঁড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে রাজনৈতিক চাপানউতোর থামার নাম নেই। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে গণনা কেন্দ্রের আগে এই ঘটনায় পলাশিপাড়া জুড়ে চরম রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।