দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচন মিটতেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দেওয়া এক খবর সামনে এল। বড়সড় স্বস্তি পেলেন ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর (I-PAC) অন্যতম ডিরেক্টর তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেল। আর্থিক তছরুপ এবং হাওয়ালার মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে ইডি-র হাতে গ্রেফতার হওয়া এই হাইপ্রোফাইল কর্তা আজ দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট থেকে জামিন পেলেন। তবে জামিনের থেকেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইডি-র হঠাৎ বদলে যাওয়া অবস্থান।
গত ১৩ এপ্রিল যখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করেছিল, তখন তারা আদালতে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, ভিনেশ বাইরে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ লোপাট করতে পারেন। এমনকি, এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে আর কারা যুক্ত আছেন, তাদের খুঁজে বের করতে চান্ডেলকে অন্যদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথাও আদালতকে জানিয়েছিল ইডি। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র ১০ দিনের মাথায় ইডি-র সেই অনড় অবস্থানে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। আজ আদালতে শুনানির সময় ভিনেশ চান্ডেলের জামিনের আবেদনে কোনো আপত্তিই জানায়নি কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। ইডি-র আইনজীবীর এই ‘নীরবতা’ বা ‘অনাপত্তি’ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। কেন মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে তদন্তের গতিপ্রকৃতি বা মনোভাব বদলে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক দশ দিন আগে দিল্লি পুলিশের একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে ভিনেশকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি আর্থিক তছরুপের অভিযোগ ছিল। ভিনেশের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশিও চালিয়েছিল ইডি। গ্রেফতারির পর থেকেই ভিনেশ চান্ডেল দাবি করে আসছিলেন যে, তাঁকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে এবং বাংলায় ভোট প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতেই এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আজ বাংলায় ভোট মিটতেই তাঁর এই নাটকীয় মুক্তি সেই দাবিকেই কি আরও জোরালো করল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইডি-র এই নমনীয় মনোভাব আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।





