নতুন বছর মানেই নতুন করে পথ চলা। আর সেই যাত্রার শুরুটা প্রতি বছরের মতো এবারও কালীঘাট মন্দির থেকেই করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ পয়লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম সকালে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরনে সাদা শাড়ি, হাতে পুজোর ডালা— একেবারে সাধারণ ভক্তের বেশে মন্দিরে পুষ্পাঞ্জলি দিলেন তিনি।
ভক্তিভরে পুজো ও প্রার্থনা: এদিন সকালে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মন্দিরে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। গর্ভগৃহে প্রবেশ করে মা কালীর চরণে লাল জবা ও শাড়ি নিবেদন করেন তিনি। পুজো শেষে মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, “আজ বছরের প্রথম দিন। প্রতিবারই আমি এখানে আসি মায়ের আশীর্বাদ নিতে। মায়ের কাছে প্রার্থনা করছি, গোটা বাংলা যেন ভালো থাকে। সবার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসুক।”
রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা বার্তা: নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এবং সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
শান্তি ও ঐক্য: বাংলায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন মিলেমিশে শান্তিতে থাকতে পারেন, সেই কামনাই তিনি করেছেন।
উন্নয়নের শপথ: নতুন বছরে বাংলার উন্নয়নের কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের ঐতিহ্য যেন অমলিন থাকে, সেই বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
জনসংযোগে মমতা: মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্যরাও। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে আশীর্বাদী ফুল ও প্রসাদ দেওয়া হয়। প্রতিবারের মতো এবারও তাঁর এই মন্দির দর্শন রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পয়লা বৈশাখের এই পুণ্য লগ্নে মুখ্যমন্ত্রীর এই ভক্তিভাব বাংলার উৎসবের মেজাজকে যেন আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল।





