খুনের বদলে ধ্বংস! অপারেশন সিঁদুরের এক বছরে মোদীর গর্জন: ‘ঘরে ঢুকে মারা হবে’

পহেলগাম জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ ভারতীয়র রক্ত ঝরানোর চরম মূল্য দিতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। আজ সেই ঐতিহাসিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর এক বছর পূর্তি। এই বিশেষ দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ নিজের ডিসপ্লে পিকচার (DP) পরিবর্তন করে বীর জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই এখন আরও ভয়াবহ এবং নিখুঁত।

সন্ত্রাসবাদের কফিনে শেষ পেরেক: মোদীর কড়া বার্তা
প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, “এক বছর আগে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছিল, তা অতুলনীয়। যারা পহেলগামে নিরীহ দেশবাসীর ওপর হামলা করার সাহস দেখিয়েছিল, তাদের যোগ্য জবাব দেওয়া হয়েছে। অপারেশন সিঁদুর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর জবাব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার অটল অঙ্গীকার।” তিনি আরও যোগ করেন যে, আজ এক বছর পরেও ভারত সন্ত্রাসবাদ এবং এর মদতদাতাদের সমূলে বিনাশ করতে আগের মতোই সংকল্পবদ্ধ।

কী ছিল এই অপারেশন সিঁদুর?
২৫ মে, ২০২৫। পহেলগাম হামলার ঠিক পরেই ভারতের তিন বাহিনী—স্থল, জল এবং আকাশপথ দিয়ে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শত্রুশিবিরে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) পেরিয়ে পাকিস্তানের গভীরে থাকা ৯টি প্রধান জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই অভিযানে সাধারণ মানুষের কোনও ক্ষতি না করে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছিল।

তিন বাহিনীর ত্র্যহস্পর্শ: যেভাবে ল্যাজেগোবরে হয়েছিল পাকিস্তান
১. বায়ুসেনার বিধ্বংসী স্ট্রাইক: ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের নুর খান এবং রহিময়ার খান বিমানঘাঁটির ওপর ভয়াবহ এয়ার স্ট্রাইক চালায়। পাকিস্তানের ড্রোন ও ইউএভি (UCAV) হামলা রুখতে ভারতের ‘আকাশ’ মিসাইল সিস্টেম এবং ‘পেচোরা’ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
২. স্থলসেনার বিক্রম: স্থলসেনার এয়ার ডিফেন্স ইউনিটগুলো কাঁধে রেখে ছোড়ার মতো ‘MANPADS’ এবং দূরপাল্লার মিসাইল দিয়ে পাকিস্তানের প্রতিটি ড্রোনকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়।
৩. নৌসেনার সমুদ্র শাসন: সমুদ্রপথে পাকিস্তানের ওপর চাপ বাড়াতে মোতায়েন করা হয়েছিল ক্যারিয়ার ব্যাটল গ্রুপ (CBG) এবং মিগ-২৯কে যুদ্ধবিমান। এর ফলে পাকিস্তানের নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা পশ্চিম উপকূলে কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছিল।
৪. BSF-এর অতন্দ্র প্রহরা: সাম্বা সেক্টরে বিএসএফ জওয়ানরা ভোরবেলায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিয়ে অন্তত দুজন জঙ্গিকে খতম করে এবং বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করে।

প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভর ভারত
অপারেশন সিঁদুর শুধুমাত্র একটি সামরিক বিজয় ছিল না, এটি ছিল ভারতের ‘ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল স্ট্র্যাটেজি’ (ICCS)-এর চূড়ান্ত পরীক্ষা। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ভারত এখন প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বার্তা আজ বিশ্বজুড়ে ভারতের সামরিক আধিপত্যের নতুন সংজ্ঞা লিখে দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy