বঙ্গ রাজনীতির এপিসেন্টার হলো কলকাতা। প্রবাদ আছে, “কলকাতা যা আজ ভাবে, বাংলা তা ভাবে কাল।” বাম জমানা থেকে শুরু করে ঘাসফুল শিবির— তিলোত্তমার ১১টি আসন বরাবরই শাসকদলের অজেয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই দুর্গের দেওয়ালে কি ফাটল ধরতে শুরু করেছে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ‘SIR’ ফ্যাক্টর কিন্তু সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
কী এই ‘SIR’ ফ্যাক্টর? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার কলকাতার ভোটে তিনটি বিষয় বা ‘SIR’ (S-I-R) নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে:
S (Sentiment/আবেগ): সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক ইস্যুতে শহরবাসীর ক্ষোভ।
I (Incumbency/প্রতিষ্ঠাবিরোধী হাওয়া): দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের পর তৈরি হওয়া একঘেয়েমি ও দুর্নীতির অভিযোগ।
R (Religious/ধর্মীয় ও জনতাত্ত্বিক মেরুকরণ): উত্তর থেকে দক্ষিণ— কলকাতার ওয়ার্ডগুলোতে বদলে যাওয়া জনতাত্ত্বিক সমীকরণ।
নজরে যে ৫টি আসন: বিজেপি এবার কলকাতার যে ৫টি আসনকে পাখির চোখ করেছে এবং যেখানে তৃণমূলের সাথে তাদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলি হলো:
১. জোড়াসাঁকো: এই মিশ্র জনজাতির এলাকায় বরাবরই বিজেপির শক্ত ভিত রয়েছে। গত উপ-নির্বাচন ও লোকসভার ট্রেন্ড বলছে, এখানে তৃণমূলের লিড অনেকটাই কমেছে। ২. শ্যামপুকুর: উত্তর কলকাতার এই বনেদি আসনে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের ভোট এবার বড় ফ্যাক্টর। বিজেপির ‘SIR’ ফর্মুলা এখানে কাজ করলে অঘটন ঘটতে পারে। ৩. রাসবিহারী: দক্ষিণ কলকাতার এই অভিজাত কেন্দ্রে গেরুয়া শিবিরের প্রভাব ক্রমবর্ধমান। গত কয়েক বছরে এখানে বিজেপির ভোট শতাংশ চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। ৪. ভবানীপুর: খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়া হলেও, এই কেন্দ্রের একটি বড় অংশের ভোটারদের সমর্থন বিজেপির দিকে ঝুঁকে রয়েছে, যা চিন্তায় রাখছে শাসকদলকে। ৫. মানিকতলা: সাধন পাণ্ডের প্রয়াণের পর এই এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। বিজেপি এখানে সুপরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে।
তৃণমূলের পাল্টা কৌশল: অবশ্য শাসকদল হাত গুটিয়ে বসে নেই। ‘পুরসভার পরিষেবা’ এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো প্রকল্পের সুফল পৌঁছে দিয়ে শহরবাসীকে ধরে রাখতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: কলকাতা কেবল একটি জেলা নয়, এটি একটি স্টেটমেন্ট। যদি এই ৫টি আসনে বিজেপি সত্যিই জয়ী হয়, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে। ‘SIR’ ফ্যাক্টর তৃণমূলের গড়ে পদ্ম ফোটাতে পারে কি না, তার উত্তর দেবে সময়।





