ভারত এখন আর কেবল অস্ত্র আমদানিকারক নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র রফতানিকারক রাষ্ট্র হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) সফরে সেই লক্ষ্যের দিকেই আরও এক ধাপ এগোল ভারত। সূত্রের খবর, দুপক্ষের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ঐতিহাসিক ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব’ চুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ব্রহ্মোস ও আকাশ মিসাইলের ম্যাজিক
২০২৬ সালের শুরু থেকেই আমিরাত ভারতের থেকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র কেনার বিষয়ে তীব্র আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে:
ব্রহ্মোস মিসাইল: বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ব্রহ্মোস কেনার লক্ষ্যে ভারত ও আমিরাতের মধ্যে কথাবার্তা প্রায় শেষ পর্যায়ে।
আকাশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম: ভারতের তৈরি আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও বড়সড় চুক্তি হতে পারে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
জয়শঙ্করের সফরের তাৎপর্য
গত ১১-১২ এপ্রিল আমিরাত সফরে গিয়ে সেদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই বৈঠকে কেবল জ্বালানি নিরাপত্তা নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার আবহে আমিরাত তাদের নিরাপত্তার জন্য ভারতের ওপর আরও বেশি আস্থা রাখছে।
কূটনৈতিক জয়ের নেপথ্যে
মোদী সরকারের আমলে ভারতের ‘লুক ওয়েস্ট’ বা পশ্চিম এশিয়া নীতি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে অনেক সহজ করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা বা রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমিরাত এখন ভারতকে তাদের প্রধান প্রতিরক্ষা সঙ্গী হিসেবে দেখতে চাইছে।
ভবিষ্যতের রোডম্যাপ
এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারত ও আমিরাতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো অনেক সহজ হবে। এছাড়া কেবল অস্ত্র কেনা নয়, বরং দুই দেশ মিলে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপসংহার: আকাশ থেকে সমুদ্র—ভারত ও আমিরাতের এই নতুন মৈত্রী কেবল বাণিজ্যের নয়, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে চলেছে। জয়শঙ্করের হাত ধরে ভারতের প্রতিরক্ষা ইন্ডাস্ট্রি এখন বিশ্বজয়ের পথে।





