২০২৬-এর মহারণ শেষ। এখন শুধু দোসরা মে-র চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা। কিন্তু তার আগেই সামনে এল বিভিন্ন সংস্থার করা এক্সিট পোল বা বুথ ফেরত সমীক্ষা। আর সেই সমীক্ষার রিপোর্ট কার্ড যা বলছে, তা যদি সত্যি হয়, তবে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। অধিকাংশ সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে—নবান্ন থেকে বিদায় নিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারে বিজেপি।
এক্সিট পোলের চমকে দেওয়া সংখ্যা: সমীক্ষার গড় রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার (১৪৮) পার করে যেতে পারে বিজেপি।
বিজেপি: পূর্বাভাস বলছে, গেরুয়া শিবির পেতে পারে ১৫৫ থেকে ১৬৫টি আসন। যা গতবারের তুলনায় এক বিশাল লাফ।
তৃণমূল কংগ্রেস: গতবারের বিপুল জয়ের পর এবার বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে ঘাসফুল শিবির। সমীক্ষায় দিদির দলের জন্য ১১০ থেকে ১২৫টি আসনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বাম-কংগ্রেস জোট: জোটের ভাগ্যে খুব একটা বড় পরিবর্তন না হলেও, তারা ৫ থেকে ১০টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছু কারণ এবার শাসক দলের বিরুদ্ধে গিয়েছে: ১. দুর্নীতি ইস্যু: নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন এবং আবাস যোজনার অভিযোগ জনমানসে বড় প্রভাব ফেলেছে। ২. অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি: টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার পর স্বভাবতই শাসক বিরোধী হাওয়ার সুবিধা পেয়েছে প্রধান বিরোধী দল। ৩. মহিলা ভোট: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সত্ত্বেও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নারী সুরক্ষা নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার প্রচার তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে ফাটল ধরিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: তবে এই এক্সিট পোলকে মানতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, “২০২১ সালেও এক্সিট পোল বিজেপিকে জেতাচ্ছিল, কিন্তু ফল কী হয়েছিল সবাই জানে। মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দিয়েছে, দিদিই ফের নবান্নে ফিরবেন।”
অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরে এখন অকাল দীপাবলি। সমীক্ষার ফল মিলে গেলে বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে মনে রাখবেন, এক্সিট পোল মানেই চূড়ান্ত ফল নয়, আসল রাজা কে—তা জানা যাবে গণনার দিনেই।





