তীব্র গরমে এক ফালি ঠান্ডা তরমুজ কার না ভালো লাগে? কিন্তু সেই তরমুজই যে আস্ত একটি পরিবারকে শেষ করে দিতে পারে, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। সম্প্রতি তরমুজ খাওয়ার পর বিষক্রিয়ায় একই পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে খাদ্য সুরক্ষা ও নিয়ামক সংস্থা (FSSAI)। বাজার থেকে আপনি যা কিনে আনছেন, তা আদতে ফল নাকি বিষের আধার— তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
আসল বিপদ কোথায়? অসাধু ব্যবসায়ীরা তরমুজকে অধিক লাল এবং মিষ্টি দেখানোর জন্য কৃত্রিম রঙ ও রাসায়নিক ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাধারণত ‘এরিথ্রোসিন’ (Erythrosine) নামক এক ধরনের সস্তা ও বিষাক্ত রঙ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তরমুজে পুশ করা হয়। এছাড়াও দ্রুত বড় করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকারক কার্বাইড। এই ধরনের রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে পেটের রোগ থেকে শুরু করে কিডনি বিকল হওয়া, এমনকি তৎক্ষণাৎ মৃত্যুর আশঙ্কাও থেকে যায়।
ঘরে বসে কীভাবে পরীক্ষা করবেন? আপনার কেনা তরমুজটি খাওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করার সহজ উপায় বাতলে দিয়েছে FSSAI:
তুলোর পরীক্ষা: একটি তুলোর ছোট টুকরো নিয়ে তরমুজের লাল অংশে ঘষুন। যদি তুলোর রঙ লাল হয়ে যায়, তবে বুঝবেন এতে কৃত্রিম রঙ মেশানো হয়েছে। প্রাকৃতিক লাল রঙ সহজে তুলোতে লেগে যায় না।
জলে পরীক্ষা: তরমুজের একটি টুকরো এক গ্লাস সাধারণ জলে ফেলে দিন। যদি জল দ্রুত লাল বা গোলাপি হতে শুরু করে, তবে নিশ্চিত হোন যে এটি রাসায়নিক মিশ্রিত।
উজ্জ্বলতা যাচাই: তরমুজ কাটার পর যদি দেখেন ভিতরের রঙ অস্বাভাবিক গাঢ় লাল এবং মাঝখানে কোনো ফাঁপা অংশ নেই, তবে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: রাস্তার ধারের কাটা ফল বা অতিরিক্ত লাল তরমুজ কেনা থেকে বিরত থাকুন। ফল খাওয়ার পর যদি বমি ভাব, পেট ব্যথা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সচেতনতাই পারে আপনার ও আপনার পরিবারের প্রাণ রক্ষা করতে।
তাই এবার থেকে তরমুজ খাওয়ার আগে তা ভালো করে ধুয়ে নিন এবং ওপরের পরীক্ষাগুলো করে নিশ্চিত হয়ে তবেই মুখে তুলুন। সামান্য অসাবধানতা যেন বড় কোনো বিপদের কারণ না হয়।





