২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট মিটতেই এখন সবার নজর ৪ মে-র দিকে। তবে ইভিএম বাক্স খোলার আগেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান। এবারের নির্বাচনে ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট’ বা এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রায় ৫১ লক্ষ ভোটার। অথচ দেখা যাচ্ছে, গতবারের তুলনায় মোট সংগৃহীত ভোটের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ! এই অদ্ভুতুড়ে পরিসংখ্যানের ভেতরেই কি লুকিয়ে আছে বাংলার পরবর্তী সরকার গঠনের গোপন চাবিকাঠি? হিসাব কষতে ব্যস্ত রাজনৈতিক পণ্ডিতরা।
৫১ লক্ষ ভোটার ছাঁটাই বনাম ৩০ লক্ষের বৃদ্ধি
নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়িতে ভোটার তালিকায় নাম সংশোধনের সময় মৃত, ভিন রাজ্যে বসবাসকারী বা ভুয়ো পরিচয়ের প্রায় ৫১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই মনে করা হয়েছিল, এতে সামগ্রিক ভোটের হার কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো ছবি। গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বুথমুখী হয়েছেন।
এই পরিসংখ্যানে কেন চিন্তায় রাজনৈতিক দলগুলো? ১. নতুন ভোটার ও সাইলেন্ট ভোটার: বাদ যাওয়া ৫১ লক্ষ ভোটারের শূন্যস্থান পূরণ করেও আরও ৩০ লক্ষ অতিরিক্ত ভোট পড়ার অর্থ হলো—তরুণ প্রজন্মের একটা বিরাট অংশ এবং দীর্ঘদিনের ‘সাইলেন্ট ভোটাররা’ এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুথে এসেছেন। এই বাড়তি ভোট কোন দিকে গেছে, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। ২. এন্টি-ইনকাম্বেন্সি না কি সমর্থন? ভোট কুশলীদের মতে, যখনই ভোটের সংখ্যা বা হার বৃদ্ধি পায়, তখন সাধারণত তা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে বাংলার ক্ষেত্রে গ্রামীণ ও শহরতলির ভোটের হারের ফারাক শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ৩. নিখুঁত তালিকা ও স্বচ্ছতা: ৫১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার ফলে যে ‘ভুয়ো ভোট’ বা ‘প্রক্সি ভোট’ কম হয়েছে, তা মেনে নিচ্ছে সব পক্ষই। ফলে এবার প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ইভিএম-এ বেশি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকার গঠনের চাবিকাঠি কার হাতে?
বাংলার রাজনীতিতে ৩০ লক্ষ ভোট মানে প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশের দাপট। গতবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান যেখানে অনেক আসনেই ছিল সামান্য, সেখানে এই বিপুল সংখ্যক বাড়তি ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহলে ভোটের হার বৃদ্ধি বড় কোনো অঘটনের সংকেত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই ৫১ লক্ষ বাদ পড়া আর ৩০ লক্ষ বেড়ে যাওয়া ভোটের রসায়ন কার মুখে হাসি ফোটায়? ৪ মে ইভিএম-এর গণনা শুরু হলেই মিলবে সব উত্তর।
আপনার মতে এই বাড়তি ৩০ লক্ষ ভোট কোন দলের বাক্সে গেছে? পরিবর্তন না কি প্রত্যাবর্তন—আপনার প্রেডিকশন আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।





