লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার আগে ও পরে বিভিন্ন সংস্থার ‘এক্সিট পোল’ বা বুথ ফেরত সমীক্ষা নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা তুঙ্গে, তখনই এক বিস্ফোরক দাবি নিয়ে সামনে এলেন প্রবীণ বাম নেতা তথা সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, জনমতের যে চিত্র সমীক্ষায় উঠে আসছে, তার সঙ্গে বাস্তবের যোজন যোজন ফারাক থাকতে পারে। আর সেই ‘বিস্ময়কর’ পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকবে বামফ্রন্ট।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান যে, এক্সিট পোল কখনওই ভোটারদের মনের প্রকৃত প্রতিফলন দেখাতে পারে না। তাঁর দাবি, অনেক সময় মানুষ জনসমক্ষে নিজের মত প্রকাশ করেন না, যার প্রভাব সরাসরি ব্যালট বাক্সে পড়ে। তিনি মনে করেন, এবারের নির্বাচনে নিভৃতে এক বড় ধরনের জনমত তৈরি হয়েছে যা প্রচলিত সমীক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে।
সমীক্ষাকে চ্যালেঞ্জ: বিকাশ ভট্টাচার্যের কথায়, “এক্সিট পোল কয়েক হাজার মানুষের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, কিন্তু কোটি কোটি ভোটারের মন বোঝা এত সহজ নয়। চূড়ান্ত ফলাফল বেরোলে দেখা যাবে সমীক্ষার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে এক বড়সড় ‘বিস্ময়’ অপেক্ষা করে আছে এবং সেই বিস্ময়কর ফলাফলের মূল কারিগর হবে বামফ্রন্ট ও তাদের জোট সঙ্গীরা।
বামেরাই কি চাবিকাঠি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ যখন তৃণমূল ও বিজেপির দ্বিমুখী লড়াই নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বিকাশরঞ্জনের এই দাবি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তাঁর আত্মবিশ্বাস, সাধারণ মানুষ এবার বিকল্প হিসেবে বামপন্থীদের ওপরই ভরসা রেখেছেন। যদিও চূড়ান্ত রায় ইভিএম বন্দি, তবুও বিকাশরঞ্জনের এই দাবি কি কেবলই রাজনৈতিক কৌশল, নাকি সত্যিই কোনো নীরব বিপ্লব ঘটতে চলেছে বাংলার বুথে বুথে? তার উত্তর পাওয়া যাবে ফলাফল ঘোষণার দিনেই।
আপাতত বিকাশরঞ্জনের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দিনশেষে সাধারণ মানুষের রায় কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





