বাংলার ভোটে নতুন ইতিহাস! দ্বিতীয় দফায় ৯০ শতাংশ পেরোল রেকর্ড ভোটদান, শীর্ষে কোন জেলা?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। রাজনৈতিক উত্তাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ল সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। এই দফায় রাজ্যের সামগ্রিক ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৬৭ শতাংশ, যা বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার এই বিপুল শতাংশের ভোটদান বিশেষজ্ঞদের অনেক হিসেব-নিকেশ উল্টে দিয়েছে। সকাল থেকেই বুথের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছিল। তবে জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে দেখা যাচ্ছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য।

পূর্ব বর্ধমানের দাপট বরাবরই গ্রামীণ বাংলায় ভোটদানের উৎসাহ বেশি থাকে, তবে এবার পূর্ব বর্ধমান জেলা যেন সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে এই জেলা শতাংশের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, স্থানীয় ইস্যু এবং কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনী ভোটারদের বুথমুখী করতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

পিছিয়ে শহর কলকাতা গ্রাম বাংলা যখন রেকর্ড গড়ছে, তখন উল্টো চিত্র ধরা পড়েছে খাস কলকাতায়। দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রে ভোটদানের হার তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। অন্যান্য জেলার তুলনায় কলকাতা দক্ষিণ এই দফায় তালিকার নীচের দিকে রয়েছে। কেন শহুরে ভোটারদের মধ্যে এই অনীহা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্লেষণ শুরু করেছেন সমাজতাত্ত্বিকরা।

কমিশনের কড়া নজরদারি দ্বিতীয় দফার ভোটে অশান্তির বিক্ষিপ্ত কিছু খবর সামনে এলেও, কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল এবং সিসিটিভি নজরদারির কারণে ভোটাররা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভোট দিতে পেরেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটদানের এই অস্বাভাবিক উচ্চ হার শেষ পর্যন্ত কার ঝুলিতে বেশি আসন নিয়ে আসবে, তা নিয়ে এখন সরগরম বাংলার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অলিন্দ।

ভোটের এই বিপুল হার কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি শাসক দলের ভিত আরও মজবুত হওয়ার প্রতিফলন— তার উত্তর মিলবে আগামী ফলপ্রকাশের দিন। তবে আপাতত ৯২ শতাংশের গণ্ডি পেরিয়ে রেকর্ড গড়ে আলোচনার কেন্দ্রে বাংলার সাধারণ মানুষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy