RG Kar-আন্দোলনের জেরেই কি ৯০০ ডাক্তারকে বেছে বেছে দূরে পাঠানো হয়? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৫ সালে পাশ করা এমডি এবং এমএস চিকিৎসকদের বন্ড পোস্টিং প্রক্রিয়ায় মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় কোনও ধরনের মেরিট লিস্ট বা মেধার তোয়াক্কা না করেই সিনিয়র রেসিডেন্টদের একতরফা পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তবে রাজ্যে সরকার বদলের পরেই সেই বিতর্কিত নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন এল। নতুন সরকারের আমলে অবশেষে ফের মেধার ভিত্তিতে সিনিয়র রেসিডেন্টদের পোস্টিং দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করা হলো। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত নতুন নোটিফিকেশন সামনে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন চিকিৎসকদের একাংশ। একইসঙ্গে নতুন এই যুগান্তকারী নির্দেশিকার জন্য রাজ্য সরকার এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

বন্ড পোস্টিং ও আগের অনিয়মের অভিযোগ

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এমডি বা এমএস পাশ করার পর চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলকভাবে ৩ বছরের জন্য বন্ড ডিউটি করতে হয়। ২০২১ ব্যাচ পর্যন্ত, অর্থাৎ যাঁরা ২০২৪ সালে পাশ করেছিলেন, তাঁরা যথাযথ কাউন্সিলিং এবং সিট ম্যাট্রিক্সের মাধ্যমেই পোস্টিং পেতেন। কিন্তু সিনিয়র রেসিডেন্টদের একাংশের অভিযোগ, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ নাগাদ তৎকালীন তৃণমূল সরকার জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর একপ্রকার প্রতিহিংসামূলক আচরণ করে। প্রায় ৯০০ থেকে ১০০০ জন চিকিৎসককে কোনও ধরনের কাউন্সিলিং ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে বহু দূরের হাসপাতালগুলিতে পোস্টিং দেওয়া হয়।

চিকিৎসক মহলের দাবি, জুনিয়র ডাক্তারদের ইচ্ছাকৃতভাবে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যেই এই অনিয়মিত পোস্টিং করা হয়েছিল। ফাইনাল এমডি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর কিংবা মেধার মানদণ্ড—কোনোটিকেই সেই সময় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আরজি কর আন্দোলনের জেরেই কি এই প্রতিহিংসা?

এই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সোচ্চার হয়েছিলেন সিনিয়র রেসিডেন্ট ডা: সৌভিক ঘোষ। তিনি জানান, গত মার্চ মাসে বিধানসভা ভোটের ঠিক আগেই এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পোস্টিং করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক আরজি কর আন্দোলনে যে সমস্ত জুনিয়র ডাক্তাররা রাজপথে নেমেছিলেন, তাঁদের হেনস্থা করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিল তৎকালীন প্রশাসন।

সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ‘মেডিভিশন’-এর প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। স্বাস্থ্যভবনে লিখিত আবেদন জানানোর পাশাপাশি লাগাতার দাবি জানানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ জুলাই ২০২৬-এ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিনিয়র রেসিডেন্টদের প্রতিনিধিদের ডেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সেখানে বিগত দিনের অনিয়ম ও ভুল স্বীকার করে নিয়ে দ্রুত কাউন্সেলিং এবং মেধার ভিত্তিতে পুরো প্রক্রিয়াটি সংশোধন করার আশ্বাস দেন তিনি।

কী বলছে নতুন নিয়ম?

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সেই কথা মতোই এবার সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে নতুন করে বন্ড পোস্টিং প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই ৩ বছরের বন্ড পোস্টিংয়ের প্রথম ১ বছর রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ এবং বাকি ২ বছর বিভিন্ন জেলা হাসপাতাল ও মহকুমা হাসপাতালে কাজ করতে হবে। এর জন্য প্রথমে মেধার ভিত্তিতে একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা বা মেরিট লিস্ট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি কোন হাসপাতালে কতগুলি আসন খালি রয়েছে, তার সম্পূর্ণ তালিকাও প্রকাশ করা হবে। এরপর চিকিৎসকেরা নিজেদের পছন্দ ও মেধা অনুযায়ী হাসপাতাল বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই প্রসঙ্গে ডা: সৌভিক ঘোষ জানান, বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপে তাঁরা অত্যন্ত খুশি। নতুন এই ব্যবস্থায় সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের কাজের ক্ষেত্রে সমস্ত হয়রানি ও জটিলতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।