বলিউডের সেই জনপ্রিয় শিশুশিল্পীরা এখন কে কোথায়? জেনেনিন বিস্তারিত

একসময় মিষ্টি হাসি, সাবলীল অভিনয় আর নিখুঁত এক্সপ্রেশন দিয়ে কোটি কোটি দর্শকের মন জয় করেছিলেন তাঁরা। রূপালি পর্দায় যাদের খুনসুটি বা কান্নায় কেঁদেছিল দর্শককুল, সময়ের স্রোতে সেই তারকারা আজ অনেক বড় হয়ে গেছেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের কেউ কেউ এখনও নামী অভিনেতা হিসেবে বিনোদন জগতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ বা স্বেচ্ছায় সরে গেছেন ক্যামেরার সামনে থেকে। নব্বইয়ের দশক থেকে একবিংশ শতাব্দীর অত্যন্ত জনপ্রিয় সেই শিশুশিল্পীদের বর্তমান জীবন নিয়েই আজকের এই বিশেষ স্মরণ।
যুগল হংসরাজ ১৯৮৩ সালের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘মাসুম’-এর সেই নীল চোখের নিষ্পাপ শিশুটির কথা সিনেমাপ্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অমলিন। শিশুশিল্পী হিসেবে যুগল হংসরাজের রূপালি পর্দার আত্মপ্রকাশটাই ছিল বেশ চমকপ্রদ। আশির দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে নজর কাড়ার পর, নব্বইয়ের দশকে ‘মোহাব্বতে’-সহ একাধিক চলচ্চিত্রে মূল নায়কের চরিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। পরবর্তীতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার দুনিয়াতেও পা রাখেন এই তারকা। দীর্ঘদিন ধরে বড় পর্দায় তাঁকে সেভাবে দেখা না গেলেও বলিউডের পরিচিত ও আলোচিত মুখগুলির তালিকায় তাঁর নাম আজও সসম্মানে উচ্চারিত হয়।
উর্মিলা মাতন্ডকর সাফল্যমণ্ডিত সেই ‘মাসুম’ সিনেমাতেই যুগল হংসরাজের সঙ্গে শিশুশিল্পী হিসেবে আলো ছড়িয়েছিলেন উর্মিলা মাতন্ডকর। শৈশবের গণ্ডি পেরিয়ে বড়বেলায়ও তিনি বলিউড কাঁপিয়েছেন নিজের অসাধারণ অভিনয় ও নাচের জাদুতে। ‘রঙ্গীলা’, ‘সত্য’ কিংবা ‘জুদাই’-এর মতো একের পর এক সুপারহিট ও কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের তালিকায় পাকা করে নিয়েছিলেন তিনি। অভিনয়ের দীর্ঘ ও বর্ণময় পথচলা পার করে পরবর্তীতে রাজনীতির ময়দানেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন এই জনপ্রিয় তারকা।
দর্শীল সাফারি আমির খান অভিনীত ২০০৭ সালের মাস্টারপিস ‘তারে জামিন পার’ সিনেমার সেই ‘ঈশান আওয়াস্থী’ চরিত্রটির কথা ভোলা দর্শকের পক্ষে অসম্ভব। ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর অভ্যন্তরীণ মানসিক দ্বন্দ্ব এবং কষ্টের লগ্নগুলি পর্দায় অত্যন্ত নিখুঁত ও সংবেদনশীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন শিশুশিল্পী দর্শীল সাফারি। প্রথম ছবিতেই তাঁর অনবদ্য অভিনয় ছুঁয়ে গিয়েছিল বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়। শৈশবের সেই অভাবনীয় সাফল্যের পর আরও কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও প্রথম ছবির মতো ব্যাপক সাফল্য তাঁর ঝুলিতে আর আসেনি। তবে বিনোদন জগত থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি, বর্তমানে নিয়মিতভাবে থিয়েটার এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের অভিনয়ের মুন্সিপিয়ানা দেখিয়ে চলেছেন।
হরশালি মালহোত্রা ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এ কোনো ধরনের সংলাপ ছাড়াই পুরো গল্পে আবেগের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন ছোট্ট ‘মুন্নি’। এই অত্যন্ত মিষ্টি চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন হরশালি মালহোত্রা। সুপারস্টার সালমান খানের সঙ্গে পর্দায় তাঁর জাদুকরী রসায়ন জয় করেছিল গোটা দেশের মন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছোট্ট মুন্নি আজ অনেকটাই বড় ও তরুণী হয়ে উঠেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে বেশ সক্রিয় থাকলেও অভিনয়ের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত বেছে বেছে পা ফেলছেন।
পরজান দস্তুর মাথায় ছোট্ট পাগড়ি, মুখে সরল হাসি আর আকাশের তারা গোনার সেই চিরচেনা দৃশ্য—শাহরুখ খানের ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমার সেই ছোট্ট সর্দারজি অর্থাৎ পরজান দস্তুরকে আজও ভোলেননি সিনেপ্রেমীরা। চলচ্চিত্রে খুব অল্প সময়ের উপস্থিতি সত্ত্বেও নিজের নিষ্পাপ অভিব্যক্তি দিয়ে চরিত্রটিকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ‘পারজানিয়া’-র মতো কিছু ব্যতিক্রমী ছবিতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে পুরোদস্তুর অভিনেতা হিসেবে পরবর্তীতে আর নিয়মিত হননি পরজান। বর্তমানে ক্যামেরার সামনে অভিনয় থেকে খানিক দূরে থাকলেও পর্দার নেপথ্যে বিভিন্ন প্রজেক্টে প্রযোজনা ও সৃজনশীল কাজের সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন তিনি।