পার্ক স্ট্রিটের বিলাসবহুল হোটেলে বসে কোটি টাকার প্রতারণা! হাতেনাতে ১১ জনকে পাকড়াও করল পুলিশ

শহর কলকাতার বুকেই ফের বড়সড় প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকার একটি হোটেল ঘর ভাড়া নিয়ে অবাধে চলছিল জালিয়াতির কারবার। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি ও নগদ টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল একটি চক্রের বিরুদ্ধে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ওই হোটেলে আচমকা হানা দেয় কলকাতা পুলিশ। সেখান থেকেই হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় ১১ জন প্রতারককে।

কীভাবে পাতা হতো এই প্রতারণার ফাঁদ? পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতরা নিজেদের সরকারি প্রকল্পের আধিকারিক বা প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ফোনে যোগাযোগ করত সাধারণ মানুষের সঙ্গে। তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে সরকারি আবাস যোজনার তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার কথা বলা হতো। কখনো আবার আবেদনপত্র যাচাই বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নাম করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত তারা। একবার মানুষ ভরসা করলেই প্রসেসিং ফি, সার্ভিস চার্জ কিংবা সরকারি ট্যাক্সের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন অছিলায় টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।

কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, এদের জালিয়াতির বিস্তার কেবল পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের একাধিক শহরের মানুষদের তারা নিশানা করেছিল। এই জালিয়াতির জাল কত দূর বিস্তৃত, তা জানতে ভিনরাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও দ্রুত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

হোটেল ঘর থেকেই পরিচালিত হতো কারবার বাইরে থেকে আর দশটা সাধারণ হোটেলের মতো মনে হলেও ঘরের ভেতরে আসলে চলত ভুয়ো ‘কল সেন্টার’। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ওই হোটেল ঘর থেকে প্রচুর সংখ্যক মোবাইল ফোন, আলাদা আলাদা সিম কার্ড, ডিজিটাল ডিভাইস এবং বেশ কিছু গুরত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা এখন উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও ডিভাইসের কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ব্যাঙ্ক লেনদেনের বিবরণ খতিয়ে দেখছেন।

নেপথ্যে কি কুখ্যাত ‘জামতাড়া গ্যাং’? প্রাথমিক তদন্তে লালবাজারের তদন্তকারীদের জোরালো সন্দেহ, এই পুরো চক্রের পেছনে ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত ‘জামতাড়া গ্যাং’-এর সরাসরি হাত থাকতে পারে। অনলাইনে বা ফোন মারফত দেশে যত বড় বড় প্রতারণা ঘটে, তার বেশির ভাগেরই যোগসূত্রে থাকে জামতাড়া মডিউল। ধৃতদের কাজের ধরন এবং জালিয়াতির স্টাইলের সঙ্গে জামতাড়ার প্রতারকদের দারুণ মিল খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ধৃত ১১ জনকে জেরা করে চক্রের মূল মাথার খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।